ঘুরে দাঁড়ানোই যার জীবনের গল্প!

হুইলচেয়ারই মো. হেদায়তুল আজিজ মুন্নার জীবনসঙ্গী। এই অবস্থায় অনেকেই হয়তো ভাববেন—জীবন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু অদম্য মুন্না থেমে না থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তৈরি করেছেন নতুন এক গল্প। যে গল্প এখন অনেকের প্রেরণা ও সাহসের উত্স।

২০০৩ সালে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান হেদায়েতুল আজিজ। জীবন ভালোই কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনা ওলট-পালট করে দেয় তার জীবনের গল্প। দুর্ঘটনায় প্রাণে রক্ষা পেলেও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির কারণে দৈহিকভাবে চিরপঙ্গুত্ববরণ করেন তিনি। এই পঙ্গুত্ব তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি বরং দৃঢ় মনোবল ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টায়, প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ড্রিম ফর ডিসঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন’।

পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মেধাবী তরুণদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে একটি একীভূত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে প্রতিবন্ধীদের কম্পিউটারসহ নানাবিধ কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই সংগঠনের গঠিত ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট টিম বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করে ভারতের হুইল চেয়ার ক্রিকেট টিমকে সিরিজ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও অর্জন করে দু’বার। এছাড়াও তিনি ডিডিএফ ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট দল এবং ডিডিএফ শারীরিক প্রতিবন্ধী ফুটবল দল গঠন করেছেন। তার সাফল্যের গল্প এখানেই শেষ নয়—বছরজুড়ে নানাবিধ শিক্ষা, সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিয়মিতভাবে প্রতিবন্ধী সমাজকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন তিনি।

করোনা সংকটে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করেও দল নিয়ে ছুটে গেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিতরণ করেছেন খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করেছেন জাতীয় পুরস্কার। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের বর্ণিল আয়োজনে তাকে সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড, সমাজসেবা অ্যাওয়ার্ড এবং ভারতের উচ্চ পর্যায়ের সম্মাননা হিসেবে অশোকা অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। প্রসঙ্গত, তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় হতে মা ও শিশুর প্রতিবন্ধিতা ও প্রতিবন্ধিকতা বিষয়ে সংক্ষিপ্ত গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন এবং কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করে তোলাই তার লক্ষ্য।
তথ্যসূত্রঃ ইত্তেফাক

About pressroom

Check Also

ধামইরহাটে দোতলা মাটির এসি বাড়ি দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড়

নওগাঁর ধামইরহাটে মাটির দোতলা এসি বাড়ী দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড় বেড়েই চলছে। উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *