প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা ৩য় শ্রেণির,জাতি হিসেবে বিশ্বে আমাদের মর্যাদাও ৩য় শ্রেণির

দেশে সকল বুদ্ধিজীবী ও নীতিনির্ধারক মহোদয়গণ বলে থাকেন শিশুরা দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ,তাদেরকে উপর্যুক্তভাবে গড়ে তুলতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাহলে দেশের এই শ্রেষ্ঠ সম্পদদের মধ্যে যারা শিক্ষার আলো বিলিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে কেন এত নিম্নমর্যাদায় রাখা হচ্ছে? কেন প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রতি সবার এত অবহেলা ?

প্রাথমিক শিক্ষকরা ছোট শিশুদের পড়ায় বলে নাকি তাদের মন ছোট হয়,তারা কৃপণ হয়,তারা অমুক হয়,তারা তমুক হয়।এত এত কথা শুনাতে শুনাতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মন বিষিয়ে তোলা হয়।

ছোট্ট শিশুদের সাথে মেলামেশা করলে যদি মন ছোট হয় তাহলে আমাদের বাবা-মায়েদের মন সবচেয়ে ছোট কারণ উনারা ছোট ছোট সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষকদের চেয়েও বেশী মেলামেশা করেন এবং করছেন,তাহলে কি তাদের মন ছোট হয়ে গেছে?

কি অদ্ভূত প্রজাতির জাতি আমরা!মানুষের জীবনে ৩টা কাল থাকে শিশুকাল,যৌবনকাল ও বৃদ্ধকাল।শিশু ও বৃদ্ধ ২কালেই আমাদের মন শিশুর মত হয়,বাকি থাকে শুধু যৌবনকাল।

তাহলে এই যৌবনকালে যারা বলতেছেন য্যে শিশুদের সাথে মেলামেশা করে বলে প্রাথমিক শিক্ষকদের মন ছোট হয় তারা বৃদ্ধকালে বুঝবেন শিশুদের সাথে মেলামেশা করলে মন ছোট হয় নাকি পবিত্র হয়?

আবার প্রাথমিক শিক্ষকদের নায্য দাবী দাওয়া নিয়ে পোস্ট দেখলেই যারা কটাক্ষ করেন তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের সবসময় নিম্নমর্যাদায় রাখার চেষ্টা করা।

আপনারা প্রাথমিক শিক্ষকদের কটাক্ষ করে যে কমেন্ট করেন সেই কমেন্টের লেখাগুলোও কিন্তু আপনাদের এই প্রাথমিক শিক্ষকরাই শিখিয়েছেন।

তারপরও সেই শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়াতে বললে আপনাদের এত জ্বলে কেন? প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদায় ৩য় শ্রেণি করে রেখে আমরা কি কখনো লাভবান হতে পারবো?

ইতিহাস স্বাক্ষী প্রাথমিক শিক্ষকদের ঠকিয়ে কোন জাতি আজ পর্যন্ত উন্নত হতে পারেনি।আবার প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চ মর্যাদা দিয়ে কোন জাতি আজ পর্যন্ত ঠকেনি।

আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা ৩য় শ্রেণি করে রাখা হয়েছে বলেই বিশ্বে আজও আমরা ৩য় শ্রেণির জাতি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছি।

আমাদের দেশের সমসাময়িককালে সিংগাপুর,মালয়েশিয়া স্বাধীন হয়েছিল।আজ সিংগাপুর,মালয়েশিয়া বিশ্বে ১ম শ্রেণির মর্যাদার অধিকারী কিন্তু আমরা আজও বিশ্বে ৩য় শ্রেণির মর্যাদার অধিকারী।

মালয়েশিয়া,সিংগাপুর তাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের ১ম শ্রেণির মর্যাদা দিয়েছেন বলে তারা নিজেরাও ১ম শ্রেণির জাতিতে পরিণত হয়েছেন।

চীন ১৯৭১ সালেও ৩য় শ্রেণির একটি দেশ ছিল কিন্তু আজ চীন বিশ্বের ১নম্বর শক্তি আমেরিকাকেও টপকে যাওয়ার পথে।গুগলে সার্চ করে দেখুন চীন তাদের প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা কোন স্তরে দিয়েছেন।

আমাদের চেয়ে নিচু অর্থনীতির দেশ পাকিস্তান,শ্রীলংকা,নেপাল শিক্ষাক্ষেত্রে World Ranking এ আমাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে গেছেন। শ্রীলংকা,পাকিস্তান ও নেপালের প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা দেখুন তারা কতটুকু মর্যাদা দিচ্ছেন তাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের।

শিক্ষায় উন্নতি না করলে কোন জাতি হাজার চেষ্টা করলেও কখনো উন্নতি করতে পারবেন না।তাহলে আমরা কেন আমাদের প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়াতে চাচ্ছিনা?

আমরা কেন দেশের মেধাবীদের প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে আকৃষ্ট করতে প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশার পর্যাক্ত আর্থ-সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করছিনা?

কেন মেধাবীরা এ পেশায় আসলে আমাদের সমাজ নাক সিটকাচ্ছেন এবং এ পেশা ছেড়ে চলে যেতে তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছেন?

আবার এই মেধাবীরাই যখন প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় ও মেধাবীদের কাছে আকৃষ্ট করতে মানসম্মত বেতন-পদমর্যাদা দেয়ার কথা বলছেন তখন এই সমাজের মানুষগুলোই কেন প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে কটাক্ষ করছেন?

তাহলে আমরা কি কখনোই চাইনা যে আমরা বিশ্বে ১নম্বর জাতি হিসেবে পরিচিতি পাই?

যদি আমাদের দেশকে আমরা বিশ্বে সত্যিই ১নম্বর জাতি হিসেবে পরিচিত করাতে চাই তবে আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের ১নম্বর আর্থ-সামাজিক মর্যাদা দিয়ে ১নম্বর মেধাবীদের প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হবে।
লেখক-মাহফিজুর রহমান মামুন,শিক্ষক ও ব্লগার

About pressroom

Check Also

ধামইরহাটে দোতলা মাটির এসি বাড়ি দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড়

নওগাঁর ধামইরহাটে মাটির দোতলা এসি বাড়ী দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড় বেড়েই চলছে। উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *