জাতি জানে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ে কিন্তু আসলে কমে

প্রাথমিক শিক্ষকরা এমন একটা পেশাজীবী যাদের বঞ্চনা ও কষ্টের কথা কেউ বাইরে থেকে বুঝতে পারেনা।এমনকি প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পূর্বে তাদের কষ্টের কথা আমি নিজেই বুঝতে পারিনি।

প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পূর্বে আমি জানতাম প্রাথমিক শিক্ষকদের কাজই বা কি শুধু শিশুদের পড়ানো।কিন্তু জয়েন করার পরে বুঝলাম এখানে শিশুদের পড়াশুনার বাইরে এত আজাইরা কাজ রয়েছে যেগুলো করার সময় পাঠদান করবেন কি,সেই কাজগুলো নিয়েই দৌড়াদৌড়ির শেষ নেই।

রেজিস্টার মেইনটেইন,শিশু জরিপ,উপবৃত্তি,ভিক্ষুক জরিপসহ অনেক কাজ রয়েছে যা স্বল্ল পরিসরে এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়।যাহোক আজকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বঞ্চনার একটি নির্মম দিক তুলে ধরি,দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে বিনা কোটায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি।

ছোটবেলা থেকে যৌথ পরিবারে শিশুদের সাথে বড় হওয়ায় শিশুদের সঙ্গ আমার বেশী ভালো লাগতো,তাই বেতন কম হলেও শুধু শিক্ষকতার মত মহৎ ও পবিত্র এ পেশায় সৎভাবে ও ইসলামের পথে সহজে চলার সুবিধার জন্যই যোগদান করি।

প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক হিসেবে তখন আমার স্কেল ছিল মাত্র ৯৭০০টাকা।পরে ২০১৭,২০১৮,২০১৯,২০২০ সালে অন্যান্য সরকারী কর্মচারীদের মতই বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে বর্তমানে আমার বেসিক বেতন ১১,৮১০ টাকা।

আমি ২০১৮-২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত পিটিআইতে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশন কোর্স(ডিপিএড) সম্পন্ন করি।গোটা বাংলাদেশের মানুষ জানে প্রাথমিক শিক্ষকদের পিটিআইতে উপরে উল্লেখিত মূল্যবান প্রশিক্ষণ নিলে বেতন বেড়ে যায়।

কিন্তু আসল ঘটনা জাতিকে জানানোর দরকার যে প্রাথমিক শিক্ষকদের দেড় বছর ধরে হাড়ভাঙা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করার পরে ডিপিএড সম্পন্ন করলে কোন বেতনতো বাড়েনা বরং উল্টো নিজের কষ্টার্জিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট থেকে একটি ইনক্রিমেন্ট কমে যায়।

যেমন আমার বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে ৯৭০০ টাকা থেকে বর্তমানে বেসিক বেতন হয়েছে ১১,৮১০টাকা।দীর্ঘ দেড় বছর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশন সম্পন্ন করে সেই সনদ এড করে এখন আমার মূল বেতন ১১,৮১০ টাকা থেকে কমে হলো ১১,২৫০ টাকা।

তাহলে বুঝে নিন প্রাথমিক শিক্ষকদের সাথে কী ধরণের বঞ্চনা করা হচ্ছে?অন্যদিকে সারা দেশের মানুষকে ঢাকঢোল পিটিয়ে জানানো হলো যে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করে বিশাল মাপের বেতন বাড়িয়েছে সরকার।

জাতি সেই খবর শুনে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো নিয়ে কটাক্ষের পর কটাক্ষ করছে।অথচ জাতি কি জানে সরকারের সেই ঢাকঢোল পিটানো ১৩তম গ্রেড পেয়ে আমার বেসিক বেতন এখন হচ্ছে ১১,৫৫০ টাকা।অথচ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে আমার বেসিক বেতন পূর্বেই ছিল ১১,৮১০ টাকা।এখন ১৩তম গ্রেড পেয়ে আমার মূল বেতন হলো ১১,৫৫০টাকা।তাহলে জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন আমার বেতন কি বাড়লো নাকি কমলো?
লেখক-মাহফিজুর রহমান,শিক্ষক ও ব্লগার

About pressroom

Check Also

ধামইরহাটে দোতলা মাটির এসি বাড়ি দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড়

নওগাঁর ধামইরহাটে মাটির দোতলা এসি বাড়ী দেখতে কৌতুহলী মানুষের ভীড় বেড়েই চলছে। উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *