Breaking News

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ চাই সাধারণ ছাত্রছাত্রী

আমরা চাকরি প্রত্যাশী যুব প্রজন্ম, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এদেশের সংবিধানকে চূড়ান্ত আইন মনে করি। আমরা গর্বিত এই ভেবে যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সুযোগ্য ও চৌকশ নেতৃত্বের মাধ্যমে বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতি শক্তভাবে মোকাবেলা করে চলেছেন যা সারা দুনিয়া ব্যাপী প্রশংসিত।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিভিন্ন সেক্টরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত করোনাকালীন প্রণোদনা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিগত ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণার সাথে বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার সরকারি চাকরির সার্কুলার ও একই সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এক বছরের অধিক সময়কাল জুড়ে হাতেগোনা কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে (সেটিও আবার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে) এবং ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারির মতো মাত্র কয়েকটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

করোনার প্রভাবে দেরিতে কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসার পরে এমন চিত্র দেখা গেছে অনেকেই ১০-১৫ দিন, এক বা দুই মাসের জন্য ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনই করতে পারেন নাই।

করোনাকালীন সময়ে অসংখ্য মানুষের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করলে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ বা আবেদনের বয়সসীমা ৩০ হলেও সহকারী বিচারকদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২, আবার বিসিএস স্বাস্থ্য তথা সরকারি ডাক্তারদের ক্ষেত্রেও ৩২ বছর। অন্যদিকে বিভিন্ন কোটার ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩২ বছর পরিলক্ষিত হয়।
করোনার এই বিভীষিকাময় সময়ে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা কিন্তু তাদের ৩০ বছরও পাচ্ছেন না। কারণ কোভিড-১৯ ইতোমধ্যেই সবার জীবনের প্রায় দেড় বছর কেড়ে নিয়েছে। এদেশে বিভিন্ন সময়ে চাকুরিতে প্রবেশের বয়স সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যখন গড় আয়ু ছিল ৫৫ বছর তখন প্রবেশে বয়স ছিল ২৭, অবসরের বয়স ছিল ৫৭। ১৯৯১ সালে সেশনজটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রবেশের বয়স করা হলো ৩০ বছর। কারণ সামরিক শাসকের কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সময় অনার্স শেষ করতে সময় লাগছে ২৭-২৮ বছর। তাই প্রবেশের বয়স ৩০ করা হয়। ২০১১ সালে এসে অবসরের বয়স বেড়ে হয় ৫৯ আর মুক্তিযোদ্ধাদের হয় ৬০। যখন গড় আয়ু ছিল ৫৭। অবসরের এই ২-৩ বছর বাড়ার কারণে এই সময় সার্কুলার হয়নি। ১৯৯১ থেকে ২০২১ এই ৩০ বছরে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৩ বছর। কিন্তু চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ে নাই এই ৩০ বছরে।

করোনায় শিক্ষার্থীদের প্রায় ২ বছর সময় জীবন থেকে অতিবাহিত হতে চলেছে। তাই করোনাকালীন সরকারের সকল প্রণোদনার পাশাপাশি মুজিববর্ষের ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরে আমরা বেকার যুবকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট ‘প্রণোদনা স্বরূপ’ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করার দাবি জানাচ্ছি।

সিপিডি, পিআরআইসহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার সমীক্ষায় দেখা যায়, করোনায় বেকারত্বের হার ২০ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। এডিবি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রথম ৬ মাস সার্কুলার হয়েছে আগের বছরের এপ্রিল থেকে ৮৭ % কম অর্থাৎ ১৩ % সার্কুলার ছিল। তাও বেশির ভাগ ৩য়-চতুর্থ শ্রেনীর।
অন্যদিকে সারা বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী সেশনজটের কবলে পতিত হয়েছে। যদিও অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু তা সেশনজটের কবল থেকে রক্ষাকবচ নয় বলে আমরা মনে করি। অধিভুক্ত সাত কলেজগুলোতে সেশনজটের পরিধি এতই বেড়েছে যে কলেজ থেকে অনেক শিক্ষার্থী ৪ বছরের স্মাতক ডিগ্রি যথাসময়ে শেষ করতে না পেরে অনেকে সাত কলেজ ছেড়ে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন ইতোমধ্যেই।

বিভিন্ন সময়ে চাকুরিতে প্রবেশের বয়স সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বৃদ্ধি করা হয়। পাকিস্তান আমলে চাকুরি শুরুর বয়স ছিল ২৫ বছর। নতুন দেশে সরকারি চাকুরির করার জন্যে দক্ষ লোক পাওয়া যাবে না বলে সেটা বাড়িয়ে ২৭ করা হয়েছিল। যখন গড় আয়ু ছিল ৫৫ বছর তখন প্রবেশের বয়স ছিল ২৭, অবসরের বয়স ছিল ৫৭। ১৯৯১ সালে সেশনজটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রবেশের বয়স করা হলো ৩০ বছর।

কারণ সামরিক শাসকের কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সময় অনার্স শেষ করতে সময় লাগছে ২৭-২৮ বছর।তাই প্রবেশের বয়স ৩০ করা হয়। ২০১১ সালে এসে অবসরের বয়স বেড়ে হয় ৫৯ আর মুক্তিযুদ্ধাদের হয় ৬০। যখন গড় আয়ু ছিল ৫৭। অবসরের এই ২-৩ বছর বাড়ার কারণে এই সময় সার্কুলার হয়নি। ১৯৯১ থেকে ২০২১ এই ২০ বছরে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৩।

কিন্তু চাকুরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ে নাই এই ২০ বছরে। সরকারি নিয়ম অনুসরনের কারণে বেসরকারি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে ৩০ বছরের বেশি এমন জনবল (অভিজ্ঞতা) ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয় না। ফলে বেসরকারি চাকুরিতে ও সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। একটি দৈনিক সপ্র্রতি জানিয়েছে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলি করোনাকালীন ক্ষতিপ্রস্থতায় জনবল নিয়োগ ১০০% থেকে কমিয়ে ১৩% এ নিয়ে এসেছে। আর করোনাকালে বেসরকারী খাতে কতো মানুষ যে চাকুরী হারিয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেষ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের ২০১৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রতিস্রুতি‘’ অনুযায়ী করোনাকালীন প্রণোদনা হিসাবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ এ উন্নীত করার জোরালো দাবী ও আবেদন জানাচ্ছে এদেশের যুব সমাজ।

About pressroom

Check Also

সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন (ঘরে বসেই সংশোধন করুন

সার্টিফিকেট সংশোধন অনলাইন বা অফলাইন দুইভাবে করা যায়। তবে ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে সংশোধন করা ভালো। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *