১ম বিসিএসেই শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন জবির প্রিয়াংকা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা হালদার ৪০তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

আপনার বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে বলুন।
প্রিয়াংকা : ২০১৮ সালের প্রথম থেকে এমএসসি ( মাস্টার্স অব সায়েন্স) ও বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) প্রস্তুতি একসঙ্গে শুরু করা হয়। অনার্সে থাকাকালীন সময়ে একাডেমিক পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। অনার্স শেষ দিকে বিসিএসের জন্যে ভর্তি হয় কোচিংয়ে।

বিসিএসের জন্যে কোন বইগুলো পড়া উচিত?

প্রিয়াংকা : প্রিলিমিনারি বা রিটেন পরীক্ষায় অবশ্যই প্রথম প্রায়োরিটি দিতে হবে বোর্ড বইগুলোকে। এখান থেকে বেসিক ক্লিয়ার করে এরপর বাজারের গাইড বই কিংবা কোচিংয়ের নোট-শিটের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। আমি কখনও ধরা-বাধা কোনো সিরিজ বই পড়িনি।

রিটেন পরীক্ষা জন্যে অ্যাসুরেন্স পড়েছিলাম। আন্তর্জাতিক বেসিক ভিউ, প্রফেসরস বাংলা পড়েছিলাম। মেন্টাল অ্যাবিলিটি ও নৈতিকতা-সুশাসনের জন্য সবসময় বিগত বছরের প্রিলি বা রিটেন পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখতাম। কোন ধরনের বই পড়িনি। এছাড়া আমি কখনও জব সলিউশন, কিংবা ডাইজেস্ট বই পড়িনি।

আপনার পড়াশোনার কৌশল সম্পর্কে বলুন।

প্রিয়াংকা : আমার পড়াশুনার কৌশল ছিল; সঠিকভাবে রুটিন ফলো করা, টাইম ম্যানেজমেন্ট, প্রচুর লেখার প্র্যাকটিস। চোখ-কান বুজে যেকোনো পরিবেশে পড়ার টেবিলের সঙ্গে লেগে থাকা। আমি প্রতিদিন ৩-৪টা বই একসঙ্গে পড়তাম রুটিন করে।

কবে থেকে চাকরির পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো?

প্রিয়াংকা : একাডেমিক পড়া বাদ দিয়ে চাকরির পড়ার দিকে মনোনিবেশে আমার দ্বিমত আছে। অনার্স শেষ দিকে কিংবা মাস্টার্স চলাকালীন প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

আপনি ভাইভা জন্যে প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন?

প্রিয়াংকা : ৪৩তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ও ৪১তম রিটেন পরীক্ষার পরে আমার ৪০তম বিসিএসের ভাইভা হয়। তাই প্রিলি ও রিটেনের পড়াগুলো ভাইভাতে কাজে লেগেছিল। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, জেলাভিত্তিক, ১ম বা ২য় চয়েস নিয়ে, একাডেমিক ও সমসাময়িক বিষয়গুলো ভালোভাবে পড়েছিলাম। পত্রিকা পড়তাম নিয়মিত। এছাড়া বাজারের ভাইভা সংক্রান্ত ২-৩ টা বই পড়েছিলাম। তবে সর্বশেষ যেটা খুব ইফেক্টিভ ছিল, তা হলো-মক ভাইবা। পরম সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, প্রথম বিসিএসে-ই সফলতা এনে দিয়েছেন।

চাকরি প্রত্যাশীদের জন্যে আপনার পরামর্শ…

প্রিয়াংকা : বর্তমানে চাকরি একটা সোনার হরিণ। তবে সবার উদ্দেশে বলব- লক্ষ্য স্থির করুন, সময়কে কাজে লাগান, যেকোনো প্রতিকূলতা থেকে মনে শক্তি যোগান, সিলেবাস অনুযায়ী পড়ুন, রাইটিং স্কিল বাড়ান। ধৈর্য, চেষ্টা, রুটিন ও জেদ- এই চারটা জায়গায় যে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেবে, সফলতা তার কাছে এসে ধরা দেবে। স্বপ্ন যদি হয় বিসিএস, পড়ার টেবিলের সামনে বড় করে লিখে রাখুন ‘আমি ক্যাডার হব, আমিই পারব।’ সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

Leave a Comment