প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা,সফলতার জন্য নেগেটিভ মানসিকতা বর্জন করুন

চলতি সপ্তাহে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার প্রকাশ করবেন কর্তৃপক্ষ এবং প্রায় ৩২হাজারের মত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে প্রাথমিকে।দেশের ২৬ লক্ষ শিক্ষিত বেকারদের জন্য এত সংখ্যক পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ অন্য আর কোথাও নেই।

এই নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে একটি বিশাল প্রতিযোগিতার মাঠ।এখানে সবার ইচ্ছে জয়লাভ করা কিন্তু সবাই জয়লাভ করতে পারবেন কি? পড়াশুনাতো সবাই করেন কিন্তু সবার চাকরি হয়না কারণ এখানে পড়াশুনার পাশাপাশি আপনার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে,নেগেটিভ মানসিকতা বাদ দিতে হবে,তবেই আপনি সফল হবেন।

নিয়োগ সার্কুলার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে অনেক নেগেটিভ মানুষিকতার মানুষ নেতিবাচক কথা বলে আপনার মনকে ভীত ও দুর্বল করে দিবে।তাদের কথায় যদি আপনি মনোবল হারান তাহলে ধরে নিন প্রতিযোগিতার আগেই আপনি হেরে গেলেন।

আপনার সংকল্প থাকবে এমন যে দেশে যদি ৫হাজার শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে আপনি তার মধ্যে একজন হবেন।গত সার্কুলারে ১২হাজার পদের(যদিও পরে ১৮হাজার নিয়োগ দিয়েছিল) জন্য আবেদন করেছিল ২৪লক্ষ,তারমানে সামগ্রিকভাবে প্রতি পদের জন্য ২০০জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল,১৯৯জন হেরে গিয়েছে,জয়লাভ করেছে শুধু ১জন।

এখন পরীক্ষার আগে আপনি যদি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কতজন সেটা নিয়ে ভাবেন তাহলেও আপনি হতাশ হয়ে যাবেন এবং যুদ্ধ হওয়ার আগেই হেরে যাবেন।আবার আপনি যদি মহিলাদের কোটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করেন তাহলেও বলা যায় আপনি যুদ্ধের আগেই হেরে গেলেন।গত নিয়োগ পরীক্ষায় নারীদের ৬০% কোটা ছিল কিন্তু চুড়ান্ত ফলাফলে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশী হয়েছিল।

কোটা অনুসরণ করে চুড়ান্ত নিয়োগে,লিখিত পরীক্ষায় কোন কোটা অনুসরণ করা হয়না,যাদের নম্বর বেশী থাকে তারাই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।চুড়ান্ত ফলাফলের সময় নিয়ম হচ্ছে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা থেকে নিয়োগ দেয়া হবে।

গতবারের নিয়োগ পরীক্ষায় সেটাই করা হয়েছিল এবং এবারও সেটাই হবে ইনশাআল্লাহ।তাই লিখিত পরীক্ষা দেয়ার আগে দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,কোটা এসব নেতিবাচক বিষয় আপনার মাথা থেকে একদম ঝেড়ে ফেলবেন এবং সবসময় টার্গেট রাখবেন ৮০ নম্বরের পরীক্ষা হলে আপনি কমপক্ষে ৭০ নম্বর পেতে।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২স্তরে হয়।এমসিকিউ টাইপের ৮০মার্কের লিখিত পরীক্ষা ও ২০মার্কের মৌখিক পরীক্ষা।আসল পরীক্ষা হচ্ছে এই লিখিত পরীক্ষাটি। লিখিত পরীক্ষায় আপনি যত বেশী নম্বর পাবেন আপনার চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশী থাকবে।তাই লিখিত পরীক্ষার জন্য আপনাকে আসল প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

যদি লিখিত পরীক্ষায় আপনি ৭০নম্বর বা তার অধিক পান তাহলে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি অন্যদের থেকে অনেক বেশী এগিয়ে গেলেন।লিখিত পরীক্ষায় অনেকে সর্বনিম্ন নম্বর পেয়ে এবং অনেকে সর্বাধিক নম্বর পেয়ে ভাইভায় অংশ নেয়। লিখিত পরীক্ষায় যারা নম্বর বেশী পায় তারাই বেশীরভাগ ভাইভায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পান।

ধরুন লিখিত পরীক্ষায় একজন ৭০ নম্বর পেয়ে ভাইভা দিয়েছেন, আরেকজন লিখিত পরীক্ষায় কোনরকমে ৬০পেয়েও ভাইভা দিয়েছেন।এখন যে ৬০ নম্বর পেয়ে ভাইভা দিয়েছেন সে লবিং করে ভাইভায় ১৮ পেলেন,আর আপনি কোন লবিং না করে ভাইভায় অংশ নিলে কমপক্ষে ১৪ নম্বর এমনিতে পাবেন।তাহলে আপনাদের দুইজনের লিখিত+মৌখিক নম্বর যোগ করে আপনার নম্বর হল ৭০+১৪=৮৪ কিন্তু অন্যজনের হল ৬০+১৮=৭৮,তাহলে চাকরিটা কার হবে বলুনতো? উত্তর হচ্ছে ১০০% আপনার চাকরিটা হবে।

লিখিত পরীক্ষার পরে ২য় রাউন্ড মানে ভাইভা পরীক্ষা।এইসময় যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদের কাছে দালাল চক্র “টাকা ছাড়া চাকরি হয়না,চাকরি হতে ক্ষমতা লাগে,দল লাগে আরো কত কি বলবে তার ঠিক নাই।খবর পাবেন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী এমপি সাহেব,মন্ত্রীসাহেবের ডিও লেটার নিয়েছেন,তার চাকরি নিশ্চিত।এসব খবর শুনে আপনি যদি দালালদের ফাদে পা দেন অথবা এমপি/মন্ত্রীর পিছনে ছোটাছুটি করেন তাহলে মনে রাখবেন আপনি হেরে যাচ্ছেন।

এসব নেগেটিভ বিষয় না ভেবে বা এসব বিষয়ে জড়িত না হয়ে দৃঢ়চিত্তে ভাইভার প্রস্তুতি নিবেন।ভাইভা পরীক্ষায় আপনার উপস্থাপনা ও মনোবল অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। ভাইভায় ভালো করলে আপনি নিশ্চিত ২০নম্বরের মধ্যে ১৫ থেকে ১৮নম্বর পাবেন। ১৮ নম্বরের উপরে কাউকে সাধারণত দেয়া হয়না।

তাই সোনার হরিণটি ধরার জন্য আপনাকে নিয়োগ পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কঠোর পড়াশুনা করতে হবে এবং নেগেটিভ মানসিকতা বাদ দিতে হবে।তবেই সাফল্য নিশ্চিত।

About pressroom

Check Also

সন্তান নিয়ে ক্লাসে স্কুলছাত্রী, কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন শিক্ষক!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে রবিবার থেকে দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হয়েছে। ভিন্ন এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *