প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক হতে চাইলে যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন

বর্তমানে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকারদের জন্য একটি চাকরি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কারন একটি চাকরির সাথে জীবনের অনেক কিছুই জড়িয়ে রয়েছে । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যারা শিক্ষক হতে চান তারা কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন, সে বিষয়টি নিয়ে আজ আলোচনা করা হল।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোট নম্বর ১০০, লিখিত পরীক্ষার ৮০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার ২০ নম্বর ।কেবল আপনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনাকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য ডাকা হবে। এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে ।

পরীক্ষায় যেসব বিষয় থেকে প্রশ্ন তৈরী হবে সেগুলো হচ্ছে বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান। প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০ টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে।

প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১নম্বর এবংপ্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য আপনার ০.২৫ নম্বর কেটে নেয়া হবে। অর্থাৎ ৪টি ভুল উত্তর হলেই আপনার প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১ নম্বর বাদ হবে।

প্রতিটি বিষয়ের জন্য আপনাকে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি ৮০ নম্বরের মধ্যে আপনি ৭০+ নম্বর পান তাহলে আপনি নিরাপদে থাকবেন। তাই শুরু থেকেই আপনাকে ভালভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে । কোনরকমের অবহেলা করা যাবেনা কারন আপনাকে অনেক প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে।তাছাড়া আপনার জীবন ও ভবিষ্যৎ একটি চাকরির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

নিচে বিভিন্ন বিষয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হল।

বাংলা

প্রথমেই বাংলা বিষয় নিয়ে আলোচনায় আসি । বাংলায় ব্যাকরণ অংশের উপর বেশি জোর দিতে হবে। ৮ম ও ৯ম-১০ম শ্রেণির বোর্ড প্রণীত ব্যাকরণ বইয়ের সব অধ্যায় উদাহরণসহ ভালোভাবে পড়তে হবে। কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম ও জীবনী সম্পর্কে জানতে হবে ।

এসএসসি বোর্ড বইয়ের লেখক পরিচিতি বা সাহিত্যিক পরিচিতি অংশ পড়লে অনেকটা সহায়ক হবে। পিএসসি নির্ধারিত ১১ জন সাহিত্যিক সম্পর্কে পড়বেন। ব্যাকরণ থেকে ভাষা, সন্ধি বিচ্ছেদ,বর্ণ, শব্দ, কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, বানান শুদ্ধি, অনুসর্গ, ধাতু, সমাস,পারিভাষিক শব্দ, সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ থেকে প্রশ্ন থাকে।

সাহিত্য অংশের গল্প বা উপন্যাসের রচয়িতা ও কবিতার লাইন দিয়ে কবির নাম থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।বিসিএস প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বই বা অন্য যে কোন গাইডে এই সব বিষয়গুলো গুছিয়ে দেয়া আছে। সেখান থেকে পড়ে নিতে পারেন।

ইংরেজি

ইংরেজি গ্রামারের Tense, Preposition,Right forms of verb, Parts of Speech, Spelling,Voice, Narration, Sentence Correction- থেকে প্রশ্ন আসে। গ্রামারের এই টপিকস গুলো Advance Learners by Chowdhury and Hossain বা অন্য যে কোন গ্রামার বই থেকে উদাহরণসহ পড়ুন। Phrase and Idoims, Synonym, Antonym মুখস্থ করতে হবে ।

ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদও পড়তে হবে। এজন্য ২০১৫-১৮ সালের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নসমূহ সমাধান করতে পারেন। বিসিএস তাছাড়া প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বইয়ের ইংরেজি অংশটুকু ভালভাবে পড়তে পারেন।

গণিত

গণিত অংশে তুলনামূলক ভাবে মার্কস পাওয়া সহজ। ২-৩ ঘণ্টা করে প্রতিদিন গণিত অনুশীলন করা প্রয়োজন। পাটিগণিতের পরিমাপ ও একক, ঐকিক নিয়ম, সুদকষা,অনুপাত, শতকরা, লাভক্ষতি, ভগ্নাংশ থেকে প্রশ্ন আসে। বীজগণিতের সাধারণ সূত্রাবলী থেকেও প্রশ্ন হয়ে থাকে।

মুখে মুখে ও সূত্র প্রয়োগ করে সংক্ষেপে ফল বের করার অনুশীলন করতে হবে যাতে প্রশ্ন দেখামাত্রই সূত্র প্রয়োগ করে ফল বের করা যায়। জ্যামিতির জন্য ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র, রম্বস, বৃত্ত ইত্যাদির সাধারণ সূত্র ও সূত্রের প্রয়োগ অনুশীলন করবেন।

৮ম ও ৯ম-১০ম শ্রেণির গণিত বই অনুসরণ করলে ভালো হবে।প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট থেকেও গণিত অংশটুকু ভালভাবে বুঝে শেষ করবেন।

সাধারণ জ্ঞান

বাংলাদেশ বিষয়াবলী থেকে সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন বেশি আসে। তাই এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষা, ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি,ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, বিখ্যাত স্থান, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিভিন্ন সম্পদ ও জাতীয় দিবস থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

আর আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন সংস্থা, দেশ,রাজধানী, মুদ্রা, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, খেলাধুলা থেকে প্রশ্ন থাকে।মাসিক কারেন্ট এফেয়ার্স সাম্প্রতিক বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য পড়তে পারেন।

সাধারণ বিজ্ঞান থেকে বিভিন্ন রোগব্যাধি, পুষ্টি, ভিটামিন,খাদ্যগুণ, থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।প্রশ্ন থাকে কম্পিউটার ও আইসিটি বিষয় থেকেও। এজন্য কম্পিউটার ও আইসিটির বেসিক বিষয় গুলো ভালভাবে জানতে হবে।

২০১৫-১৮ সালের বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা বিজ্ঞান, আইসিটি ও কম্পিউটার বিষয়ের প্রশ্ন গুলো ভালভাবে পড়লে বেশ কিছু কমন পেতে পারেন।

উপরের পরামর্শ গুলো শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যই নয়। অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির জন্যও প্রযোজ্য। এইভাবে পড়লে আশা করি আপনি ভাল নম্বর পাবেন।আপনি চাইলে যিনি আরো ভাল জানেন বা নিজের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেন।

মোটকথা আপনাকে পড়তে হবে, পরিশ্রম করতে হবে। যে চাকরি করে ৩০ বছর আপনার জীবন চলবে তাহলে অন্তত ৩০ দিন সেই চাকরির জন্য দৈনিক ১৬ ঘণ্টা করে পড়ালেখা করেন। সরকারি জবের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি জবের জন্যও চেষ্টা করুন।

পড়ুন, পরিশ্রম করুন, প্রার্থনা করুন এবং পড়ুন। আপনি যদি ভালভাবে পড়েন সেটা এই জবে কাজে না লাগলেও অন্য কোন জবে ঠিকই কাজে লেগে যাবে। কারো পড়ালেখা কখনো বৃথা যায়না। আপনি যেকোন ভাবেই এর সুফল পাবেনই। আল্লাহ সবার হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিন।

About pressroom

Check Also

সন্তান নিয়ে ক্লাসে স্কুলছাত্রী, কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন শিক্ষক!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে রবিবার থেকে দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হয়েছে। ভিন্ন এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *