মেডিকেলে চান্স না পেয়েও ডেন্টালে জাতীয় মেধায় প্রথম হলেন রাহাদ

সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে) ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জনে (বিডিএস) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। মেধাতালিকা ও কোটাভিত্তিতে মোট ৫৪৫ জন শিক্ষার্থীকে একটি সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ৮টি মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ নম্বর পাস মার্ক পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭২৬ জন।

প্রকাশিত এই ফলে জাতীয় মেধায় প্রথম হয়েছেন মো. নাজমুস সাকিব রাহাদ। ভর্তি পরীক্ষায় তার রোল নম্বর-৫৫০৩৪৩৭। তিনি মোট ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৫ নম্বর পেয়ে জাতীয় মেধায় প্রথম হয়েছেন।২০২০ সালে তিনি ঢাকার সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। তার নির্বাচিত কলেজ হচ্ছে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ।

জানা গেছে, চলতি বছরের মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিলেন পঞ্চগড়ের নাজমুস সাকিব রাহাদ। মাত্র এক নম্বর কম স্কোর থাকায় মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ হয়নি তার। তবে ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় হয়েছেন দেশসেরা।

রাহাদের বাড়ি সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড রতনী বাড়ী এলাকায়। তার বাবা সোলায়মান আলী। ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট রাহাদ। তিনি ২০১৮ সালে পঞ্চগড় বিপি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে সেন্ট জোসেফ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

ফল প্রকাশের পর গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে এ সাফল্য হয়েছে। বাবা-মার দোয়া এবং আত্মীয়-স্বজন ও শিক্ষদের প্রেরণা ও অবদান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট পেয়েছি বড় ভাই ইব্রাহিম খলিলের কাছ থেকে।তিনি বলেন, আমি আগে থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আমার স্বপ্ন দক্ষ চিকিৎসক হয়ে সমাজের গরীব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবো।

রাহাদ জানান, এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র এক নম্বর কম স্কোর থাকায় সেখানে ভর্তির সুযোগ পাননি। ডেন্টালে দেশসেরা হতে পারলেন আর মেডিকেলে ভর্তির সুযোগই হলো না তার।তিনি আরও বলেন, মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলাম। পরে ডেন্টালের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করি। সাফল্য পেলাম। আমি ডাক্তার হয়ে এই অসহায় মানুষদের সেবা করতে চাই।

রাহাদের বড় ভাই মাদ্রাসাশিক্ষক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমার ছোট ভাই রাহাদ ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী। সে অনেক ভদ্র ও বিনয়ী ছাত্র ছিল। আমি ভাইয়ের পাশাপাশি তার শিক্ষক। আমাদের স্বপ্ন ছিল রাহাদকে চিকিৎসক বানাব। সেভাবেই ওকে সব সময় সাপোর্ট দিয়েছি। এখন স্বপ্ন পূরণের জন্য সকলের দোয়া চাই। সে যেন বড় হয়ে অনেক বড় চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।
সূত্রঃ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস

About pressroom

Check Also

সন্তান নিয়ে ক্লাসে স্কুলছাত্রী, কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন শিক্ষক!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে রবিবার থেকে দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হয়েছে। ভিন্ন এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *