Breaking News

প্রশংসায় ভাসছেন ৩০ লক্ষ টাকার জমি দিয়ে বিদ্যালয় বাঁচানো শিক্ষক জগদিশ

বিলুপ্তি ঘোষণার সিন্ধান্তের পর ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি দান করে বিদ্যালয় বাঁচানো সেই সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র রায় প্রশংসায় ভাসছেন। মহৎ এ কাজটির জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাকে। করোনা মহামারির কারণে ওই প্রধান শিক্ষককে ঘটা করে সংবর্ধনা দিতে না পারলেও তার প্রতি ভালোবাস, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার কমতি নেই এলাকাবাসীর।

জগদিশ চন্দ্র রায় বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নিজের সন্তানের মতো করে সাজিয়েছি। অবসর নিয়েছি, তাই বলে কি সন্তানকে বাঁচাতে পারবো না! তাই যত মূল্যবান জমি হোক না কেন, তা দান করেছি বিদ্যালয়ের জন্য। এরপর থেকে অনেকেই আমার বাড়িতে এসে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ির বাইরে বের হলেই সবাই আমার কাছে আসছেন। আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।

তিনি শিক্ষার প্রসারে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমায়া দেব বর্মা বলেন, জগদিশ স্যারকে আমরা মহা ধুমধাম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে সম্ভব হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো। তবে, স্যারের বাড়ি গিয়ে দেখা করে আমরা স্যারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।

এলাকার বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, আমার ছেলে শালমারা বন্দরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। যেদিন প্রচার হলো বিদ্যালয়টি আর থাকেবে না। সেইদিন আমার ছেলের মন খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আমিও চিন্তায় পড়ে গেছিলাম, এখন ছেলেকে কোন স্কুলে ভর্তি করবো? বিদ্যালয়টি বিলুপ্ত না হওয়ায় আমার ছেলে এখন খুব খুশি। আর আমারও চিন্তা দূর হলো। তিনিও জগদিশ স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সত্যেন্দ্র নাথ রায় বলেন, জগদিশ স্যারের বাবা হরিণচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ধরনী চন্দ্র রায়। তিনিও এ এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। জগদিশ স্যার আমাদের এলাকার গর্ব।হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, জগদিশ স্যার অনেক মূল্যবান একটি জমি দান করেছেন। তিনি টাকার দিকে না দেখে, এলাকার শিক্ষা প্রসারে দেখেছেন। এই বিষয়টা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমীর হোসেন বলেন, নতুন জমির রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। পুরাতন ভবনের টিন ও আসবাবপত্রগুলো কাজে লাগানো হবে। আশাকরি দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যাবে। লকডাউন শেষ হলেই স্বাস্থবিধি মেনে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বলেন, অর্থবিত্ত অনেকের আছে। কিন্তু দান করার মানসিকতা সবার থাকে না। ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যবান একটি জমি সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র দান করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

প্রসঙ্গত, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার শালমারা বন্দরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঘেঁষে নীলফামারী-ডোমার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। ওই স্থানে বিদ্যালয় থাকলে হরহামেশা দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশপাশে আর কোনো জমি না থাকায় উপজেলা শিক্ষা কমিটি বিদ্যালয়টি বিলুপ্তের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র রায় জমি দান করেন। এরপর শিক্ষা কমিটি বিদ্যালয়টি বিলুপ্তের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। সূত্রঃ রাইজিং বিডি

About pressroom

Check Also

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে একই ব্যাচে আপন দুই ভাই

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন আপন দুই ভাই। তবে এরকম ঘটনা বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সেটাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *