Breaking News
Home / BCS Examination / এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

৩৩তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন তাইমুর শাহরিয়ার। তবে তাইমুরের এই দীর্ঘপথ এটা পাড়ি দেওয়ার গল্পটি সহ’জ ছিল না। ফেল করার পর যেখানে অনেকেই হতাশ হয়ে যায় সেখানে এসএসসিতে দুবার অকৃতকার্য হয়েও হাল ছাড়েননি তাইমুর।

স্কুলের ‘ফার্স্ট বয়’ হওয়ার পরও এসএসসি পরীক্ষায় রসায়ন বিষয়ে অকৃতকার্য হন তিনি। অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল বিপর্যয় শুনে ঘাবড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজন সবাই হতবাক। তাইমুরের ভাষায়, ‘এটা ছিল অবিশ্বা’স্য। সেই অনুভূতিটাও কখনও বলে বোঝানো সম্ভব না।’

সবার সান্ত্বনা ও সাহসে পরবর্তী বছর পরীক্ষা দিলেন তাইমুর। কিন্তু ভাগ্যের কী’ নি’র্মম পরিহাস, আবারও রসায়নে ফেল। জীবনের এমন করুণ হতাশার মুহূর্তে বাবার কয়েকটি কথাকে পুঁজি করেই অ’পেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে সামনে অগ্রসর হয়েছিলেন তিনি।

তাইমুরের বাবা বলেছিলেন, ‘জ্ব’লার মতো আ’গুন থাকলে, একদিন তা জ্বলে উঠবেই। দেরিতে হলেও। প্রতিভা থাকলে, তা একদিন প্রকাশ পাবেই। তাই ঘাবড়ানোর কিছু নেই।’

অবশেষে ২০০৩ সালে বরগুনার আমতলী এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৩.৭৫ নিয়ে পাস করলেন। এরপর আমতলী ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইস’লামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। অবশেষে ২০০৯ সালে অনার্স এবং ২০১০ সালে মাস্টার্স শেষ করেন।

ততদিনে ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনাটি অ’তীত। এরপর থেকে পুরোদমে চলতে থাকে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। ৩১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও পরবর্তী ধাপ অ’তিক্রম করতে পারেননি। ৩২তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। অবশেষে ৩৩তম বিসিএসে আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বা’সের ফলে গৌরবের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন দুবার ফেল করা ছাত্রটি। পছন্দ তালিকার প্রথমে পু’লিশ ক্যাডার এবং দ্বিতীয়টি প্রশাসন ক্যাডারে থাকলেও তাইমুরের ভাগ্যে ছিল শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গৌরবময় স্থান।

শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার পর তাইমুর শাহরিয়ারের প্রথম কর্মস্থল ছিল বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ। ইস’লামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে আড়াই বছর চাকরি শেষে ২০১৭ সালের ১ মা’র্চ বদলিভিত্তিক পদায়নে ঢাকার সরকারি কবি নজরুল কলেজে আসেন। সফলতা স’ম্পর্কে তিনি বলেন, আমি হয়তো সাময়িকভাবে মচকে গিয়েছিলাম কিন্তু ভেঙে পড়িনি। বাকিটা আত্মবিশ্বা’স আর পরিশ্রমের ফল।

About pressroom

Check Also

কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলে বিসিএস ক্যাডার হন সায়মা

ডা. সায়মা সাদিয়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের লেকচারার। বাবা মো. শহিদুল্লাহ, মা শারমিন আকতার। বরিশাল সরকারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money