Breaking News
Home / BCS Examination / স্বপ্ন হলো সত্যি, মেধার জোরেই মেডিকেলে সুযোগ পেল সাবিহা

স্বপ্ন হলো সত্যি, মেধার জোরেই মেডিকেলে সুযোগ পেল সাবিহা

সাবিহা আক্তার। আজন্ম লালিত স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হবে সে। ছোটবেলায় সবসময় অসুস্থ থাকতো সাবিহা। মায়ের কোলে করে ডাক্তারের কাছে ছুটোছুটি। ডাক্তারের কানে লাগানো স্থেটিস্কোপ দিয়ে যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতো অসুস্থ অবস্থাতেই সে যেন হারিয়ে যেত কল্পনার জগতে। দেখতো বড় হয়ে সেও মানুষের সেবা করছে। তবে স্বপ্ন বা কল্পনায় নয়, সাবিহার সে স্বপ্ন

এবার বাস্তবেই ধরা দিয়েছে। ছোট্ট একটা চিলেকোঠায় সাবিহা আর তার ভাইসহ চারজনের সংসার পেতেছেন বাউবির দিনাজপুর উপ আঞ্চলিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী সুজা মিয়া। অভাবের সংসারে তিনি স্বপ্ন দেখেন তার মেধাবী সন্তানরা একদিন বড় হবে। বাবার নাম উজ্জ্বল করবে। নৈশ প্রহরীর মেয়ে হয়েও অদম্য সাবিহা আক্তার। অন্য সব মেয়েদের থেকে নিজেকে

চিনিয়েছে আলাদাভাবে। পিইসি থেকে এইচএসসি সবখানেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে সে। এবার চান্স পেয়েছে স্বপ্নের মেডিকেলে। শিক্ষার শুরু থেকেই স্বপ্ন মেডিকেলে পড়ার, সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছে সাবিহা। সাবিহা আক্তার বাউবির দিনাজপুর উপ আঞ্চলিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী সুজা মিয়ার একমাত্র মেয়ে। তিনি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মানকৌর

গ্রামের বাসিন্দা। ১৫ বছর ধরে দিনাজপুর সুইহারি এলাকায় ছোট্ট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ভাই-বোন মিলে চারজনের সংসারে বাবা যেখানে সংসার চালাতেই হিমশিম খেলেও সাবিহা আজ তার স্বপ্নের উচ্চশিখরে। অন্য সব ছেলে-মেয়েরা যখন কোচিং প্রাইভেট নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সাবিহা ব্যস্ত থাকে তার পড়ার টেবিলে। অনেক কিছু না পাওয়া থেকেও

বাবার অল্প আয়ে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে পড়ালেখা করেছে। নিয়েছে বড় ভাইয়ের সহযোগিতা। সাবিহা পিইসিতে, জেএসসিতে জিপিএ ৫, এসএসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ এবং ২০২০ সালে এইচএসসিতে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। স্কুলজীবনে সবসময় প্রথম স্থানে থাকতো সাবিহা। ২০২০-২১ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এম.আব্দুর

রহিম মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। বড় ভাই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার সাজু মোল্লা সবসময় বোনের পাশে ছিলেন ছায়া হয়ে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত বড় ভাই ছিলেন একাধারে শিক্ষক, গাইড ও বন্ধু। কেননা অল্প বেতনে চাকরি করা বাবার সামর্থ্য ছিল না প্রাইভেট টিউটর কিংবা কোচিং করানোর। ছোট বোন মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় বেশ খুশি বড় ভাই সাজু মোল্লা। অভাবের

সংসারে এতোদূর কীভাবে, জানতে চাইলে সাবিহা বলেন , মা-বাবার অনুপ্রেরণায় আজ আমি এতো দূর পর্যন্ত পৌঁছেছি। মা সব সময় অনুপ্রেরণা দিত এগিয়ে যাওয়ার। অভাবের সংসার বলতে যেভাবে আছি সেখান থেকে আমাকে ভালো কিছু করতে হবে। বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে সাবিহা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ) বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে সাবিহা সুজা মিয়ার বলেন, আমার মেয়ে এবার

দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। চান্স পাওয়ার পর আমি আমার মেয়েকে বলেছি, সে যেন জনগণের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করে। সে যেন জনগণের ডাক্তার হতে পারে। সাবিহার ব্যাপারে তার স্কুলশিক্ষক চেহেলগাজী শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন, সাবিহা খুব মেধাবী শিক্ষার্থী। সে তার শিক্ষকদের খুব

সম্মান করতো। অষ্টম শ্রেণিতে সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে তার পরিশ্রমের উত্তম ফল পেয়েছে। সাবিহার শিক্ষক ও দিনাজপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম জানান, সাবিহা ও তার গ্রুপের বেশ কয়েকজন ছাত্রী বেশ মেধাবী। তারা অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। সাবিহাকে এ সময় তার ভালো ফলের জন্য অভিনন্দন জানান তিনি।

About pressroom

Check Also

কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলে বিসিএস ক্যাডার হন সায়মা

ডা. সায়মা সাদিয়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের লেকচারার। বাবা মো. শহিদুল্লাহ, মা শারমিন আকতার। বরিশাল সরকারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money