Breaking News
Home / BCS Examination / বয়স বাড়ান, বাড়ান কর্মসংস্থান

বয়স বাড়ান, বাড়ান কর্মসংস্থান

চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে জোরদার আন্দোলনে যাচ্ছে সংগঠনগুলো। চলছে করোনা মহামারিকাল। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু স্থবির। চাকরির বাজারেও মন্দা। এ অবস্থায় চাকরির প্রবাহ ঠিক রাখা এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা

বাড়ানো হয়। এরপর অবসরের বয়স বাড়ানো হলেও প্রবেশের বয়স আর বাড়েনি। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া, সেশনজট, নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি সরকার। একসময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ

বয়স ছিল ২৫ বছর আর অবসরের বয়স ছিল ৫৫ বছর। স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুর দিক থেকে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ২৭ বছর আর অবসরের বয়স ৫৭ বছর করা হয়। ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স তিন বছর বাড়িয়ে ৩০-এ উন্নীত করা হয়। ২০১২ সালে দুই বছর বাড়িয়ে অবসরের বয়স ৫৯ বছর করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

অবসরের বয়স করা হয় ৬০ বছর। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর কোনো চিন্তা সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রী একেবারে ডাটা ধরে বলেছেন, ৩০ বছরের বয়সী যারা বিসিএস দেয়, এক শতাংশেরও নিচে তারা চান্স পায়।’ বাস্তবতা হচ্ছে দেশে বেকারত্ব বাড়ছে এই অবস্থায়

চাকরিপ্রার্থী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্যে একটি ভারসাম্যমূলক অবস্থান থাকতে হবে। চলছে করোনা মহামারিকাল। দেখা দিচ্ছে নানামুখী সংকট। বিশেষ করে চাকরির বাজারে বইছে মন্দাবস্থা। যেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা প্রয়োজন সেখানে লোকজন চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় চাকরির প্রবাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবছর যে হারে শিক্ষিত

চাকরি প্রার্থী তৈরি হচ্ছে সে হারে চাকরির ক্ষেত্র ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমন্বয় থাকতে হবে। নইলে এক পাহাড়সম সমস্যা তৈরি হবে। আদতে হয়েছেও তাই। চাকরি প্রার্থীর তুলনায় সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে চাকরির সংখ্যা খুবই কম। যা রয়েছে সেগুলোতেও যদি নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখা না হয় এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে

একদিকে পাহাড়সম বেকারত্ব বাড়ছে অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে হাজার হাজার শূন্য পদ থেকে যাচ্ছে। এগুলোতে নিয়োগের যেন কোনো তাগিদ নেই। এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দিনের পর দিন বন্ধ থাকছে শূন্যপদে নিয়োগ। এতে বেকারত্বের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হচ্ছে আকাশ-বাতাস। সময়মত চাকরি-বাকরি না পেয়ে অনেকেই গ্লানিময় জীবন যাপন করছে যা কোনো অবস্থায়ই কাম্য

নয়। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে কোটি কোটি হাত বসিয়ে রেখে সেটা সম্ভব নয়। যেখানে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে সেখানে অনেক পদ দীর্ঘদিন খালি থাকা সে অনুযায়ী নিয়োগ না দেয়া রীতিমত অন্যায়। যে কোনো ক্ষেত্রে শূন্যপদের নিয়োগ দ্রুততর করতে হবে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান হবে বেকারদের অন্যদিকে শূন্য পদ থাকার কারণে কাজের যে ক্ষতি হচ্ছে সেটিরও

সমাধান হবে। ঠিক থাকবে চাকরির প্রবাহও। এ ব্যাপারে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে-এমনটিই দেখতে চায় মানুষজন।

About pressroom

Check Also

মেডিকেলে চান্স পেলেন রিকশাচালক বাবার দুই জমজ ছেলে

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার এক অটোরিকশা চালকের যমজ দুই ছেলে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money