Breaking News
Home / BCS Examination / চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি!

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি!

করোনাকালে বদলে গিয়েছে পৃথিবীর চিরচেনা রূপ। কোনদিন ফিরবে পূর্বের রূপে বা কোনদিন চলে যাবে করোনার প্রভাব এ সম্পর্কে কারো সুস্পষ্ট ধারণা নেই। পৃথিবীর সব দেশের জন্য ধাক্কা হলেও আমাদের মতো মধ্যম আয়ের বা এত জনসংখ্যা বহুল দেশের জন্য চরম ধাক্কা। করোনা দিচ্ছে আমাদের বিভিন্ন রকমের শিক্ষা যার জন্য আমাদের কোনো পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন অর্থনৈতিক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ। করোনায় যেসব খাত সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পরেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শ্রমবাজার। দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ না থাকায় বিদায় হয়েছে কর্মক্ষেত্র থেকে। পাশাপাশি ব্যাপকভাবে শ্রমিক নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করার অপেক্ষায় রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা ছাত্রজীবনের শেষ সময়ে বা শেষ করে চাকরির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষেত্র না থাকায় চাকরি না পেয়ে হতাশায় বিপদগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ। পড়াশোনা শেষ করে খুব একটা সময় পাচ্ছে না চাকরিতে আবেদন করার মতো। এছাড়া বর্তমান করোনাকালে শিক্ষাক্ষেত্রে যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকটা সময় নিতেই হবে একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিতে বর্তমান প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারীদের বয়স ৩২ বছর রাখা হয়েছে। যখন দেশের মানুষের গড় আয়ু ৪৫ বছর ছিল তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর আর গড় আয়ু ৫০ বছর হওয়ার পর তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০। কিন্তু বর্তমানে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর হলেও বাড়েনি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা।

যেহেতু গড় আয়ু ৭২-এ দাঁড়িয়েছে তাই সার্বিক বিচারে অবসরের বয়স বৃদ্ধি করাও প্রয়োজন। মানুষের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের শ্রমবাজার হবে আরো সমৃদ্ধ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাকরিতে প্রবেশের এবং অবসরের বয়স একেক রকম। প্রত্যেক দেশের অবস্থা বিবেচনা করে এটা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উত্তর আমেরিকায় চাকরিতে বয়সের প্রবেশসীমা রয়েছে ৫৯ বছরে। এছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ বয়সসীমা ৩৫ বছরে রয়েছে। এ বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান করেছে চাকরি প্রত্যাশীরা।

এমনকি এখনও এ আন্দোলন সীমিত পরিসরে চলমান রয়েছে। চাকরির আবেদনের বয়সসীমা কম থাকায় শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় চাকরির পড়াশোনা। যার ফলে একাডেমিক পড়াশোনায় তৈরি হচ্ছে ব্যাপক ঘাটতি। পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান তৈরি হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের ওপর। স্নাতক ২ বছরের কোর্স বৃদ্ধি করে ৩ বছর এবং স্নাতক সম্মান কোর্স এর মেয়াদ ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ বছর। যার ফলে শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে এক বছর বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। উপরের স্তরে শিক্ষা এক বছর বৃদ্ধি হলেও আগের নিয়মেই রয়ে গেছে আবেদনের মেয়াদ।

১৬ বছর বয়সে মাধ্যমিক স্তর পরিপূর্ণ করে ১৮ বছর বয়সে শেষ হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর এবং ২২ বছর বয়সে স্নাতক স্তর অতিক্রম করে ২৩ বছরে স্নাতকোত্তর সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হতে সময় নিচ্ছে আরো অনেক বেশি। নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ হলে চাকরির জন্য ৭ বছর চেষ্টা করতে পারত শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষাস্তরের বিভিন্ন পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে ২৫ থেকে ২৬ বছর চলে যাচ্ছে শিক্ষাজীবন শেষ করতে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষা জীবন শেষ করতে পারে সেদিকে সরকারের খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সরকার সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করার কারণে দিনদিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একথা স্বীকার করতে হবে যে সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রতি বেশ আন্তরিক। কিন্তু জনবহুল এদেশে কারিগরি শিক্ষার জন্য যে বব্যস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত অপ্রতুল। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা প্রদান করে যুবসমাজকে শ্রমবাজারে ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে উপরের স্তরে পদ খালি না হওয়ায় পদোন্নতিও হচ্ছে কম।

যার ফলে নিচের স্তরেও পদশূন্য না হওয়ায় নিয়োগ পাচ্ছে না নতুন করে। যেহেতু গড় আয়ু বেড়েছে তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করলে এবং অবসরের সীমা বৃদ্ধি করলে শ্রমবাজারে সুফল আসবে একথা বলা যায়। যে পরিমাণ যুবক শিক্ষাগ্রহণ করে বের হচ্ছে সে তুলনায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই তাই পড়াশোনা শেষ করেই কর্মসংস্থানে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে না। যার ফলে বারবার চেষ্টা করতে হচ্ছে চাকরির জন্য। সেক্ষেত্রে আবেদনের বয়স না থাকায় সুযোগ হারাচ্ছে চাকরি প্রত্যাশীরা। ফলে তরুণদের নেমে আসছে হতাশা যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক বিশৃঙ্খলা। সরকার যদি এক্ষেত্রে প্রবেশের সময় বৃদ্ধি করে তাহলে যুব সম্প্রদায় আরো কিছুদিন চাকরির প্রস্তুতি নিলে পাঠ্যাভ্যাসের মধ্যে থাকতে পারবে।

প্রবেশের বয়স ৩৫ করা হলে এবং অবসরের বয়স ৬০ করা হলে একজন চাকরিজীবি স্বাভাবিকভাবেই চাকরির কাল ২৫ বছর পূর্ণ করতে পারবে। একটি দেশের উন্নতির প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ তারুণ্যের শক্তি। এ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ ভীতকে আরো মজবুত করা যেতে পারে। আর এ শক্তিকে কাজে লাগানোর একটি ধাপ হলো চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি। আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে বয়স বৃদ্ধি করা মানেই চাকরি দেওয়া নয়।

চাকরি বাজারে প্রবেশের চেষ্টাকে আরো সময় দেওয়া এবং যুবশক্তিকে শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা। এতে করে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও নেই। সার্বিক দিক বিবেচনায় পৃথিবী যে কঠিন সময় পার করছে এ সমস্যা মোকাবিলায় সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের উচিত অন্ততপক্ষে চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বৃদ্ধি করা।

About pressroom

Check Also

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ৩২ ছাড়া গতি নাই’

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ বছর করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ চলছে। বৃষ্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money