Breaking News
Home / BCS Examination / প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি: যেভাবে যুদ্ধে জয় নিশ্চিত করবেন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি: যেভাবে যুদ্ধে জয় নিশ্চিত করবেন

আজকের পোস্টে আমরা জানবো প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আদ্যোপান্ত ও কলা-কৌশল। তবে শুরুতেই বলা রাখা ভাল, আত্মবিশ্বাসী হোন, প্রিলিতে উতরে যাওয়ার জন্য এখনও পর্যাপ্ত সময়। শুধু আজ থেকেই লেগে পড়তে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি শুরুর আগে জানা জরুরী- কি পড়বেন এবং কি পড়বেন না। তার জন্য সিলেবাস সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখতে হবে। সিলেবাস জানা থাকলে গাঁধার খাটুনি খাটতে হবে না।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবন্টন: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুই ধাপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। প্রথমে নেওয়া হয় MCQ বা বহুনির্বাচনী পরীক্ষা। MCQ পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞানের প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর যোগ হবে। প্রত্যেক ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর। পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ সময় ১ ঘন্টা। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডাকা হয় মৌখিক পরীক্ষায়। এ ধাপে থাকে ২০ নম্বর। ভাইভায় টিকলে পরবর্তী যাচাই বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সহায়ক বই: সহায়ক বই হিসেবে আমি বলব, নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে এমপি থ্রি, ওরাকল অথবা যেকোন ভাল একটা সিরিজ ফলো করুন। বিগত বছরের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখলে প্রশ্নপত্র সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। প্রশ্নগুলো সংগ্রহে থাকলে প্রস্তুতিতে বেশ কাজে দেবে। প্রফেসর’স বা ওরাকল জব সলুশন থেকে ২০১৭ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পিএসসিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ প্রশ্নের সমাধান ভালভাবে পড়ুন যেন চোখ পড়লেই উত্তর বলতে পারেন। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ গাইড বই পাওয়া যায়। ভালো প্রস্তুতিতে এগুলোও সহায়ক হবে।

সিলেবাস:
ইংরেজিঃ গ্রামারে Right forms of verb, Tense, Preposition, Parts of Speech, Voice, Narration, Spelling, Sentence Correction- এর নিয়ম জানতে হবে এবং গ্রামার বইয়ের উদাহরণ থেকে চর্চা করতে হবে। মুখস্থ করতে হবে Phrase and Idioms, Synonym, Antonym. ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ আসতে পারে। তাই বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করলে ভালো করা সম্ভব।

বাংলা: সন্ধি(২), বিপরীত শব্দ (২/৩), সমার্থক শব্দ(২), শুদ্ধ বানান (২), এককথায় প্রকাশ (২), সমাস (২), বাগধারা (২), কারক-বিভক্তি, ছদ্মনাম/উপাধি, দ্বিরুক্ত শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, বাক্য (সরল, জটিল, যৌগিক) ও পদ নির্ণয়।

প্রচীন যুগ, মধ্যযুগ* থেকে ১ অথবা ২ মার্কস আসতে পারে তবে মধ্যযুগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ,আধুনিক যুগের সাহিত্য কর্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস/রচনাসমগ্র (১/২ মার্কস) এবং পরিচিত কবি সাহিত্যিকের রচনা বা জন্ম মৃত্যু নিয়ে ১/২ মার্কস আসতে পারে যেগুলো পারার মত।

ইংরেজি: যেকোন সিরিজের বই থেকে পড়লেই চলবে তবে English For Competitive Exams বইটিতে বিগত সালের প্রশ্ন বেশি থাকায় এটাই বেস্ট বই। Right form of verb, Fill in the blank with appropriate word/preposition(2), Voice Change (1/2), Narration(1), Sentence Correction(2), Spelling (2), Parts of speech Identification (2), Synonym+antonym(3/4), Idioms & Phrase.

গণিত: দশমিকের (যোগ, বিয়োগ, গুণ*, ভাগ*), শতকরা, লাভ-ক্ষতি, মুনাফা, ল.সা.গু, গ.সা.গু, ঐকিক নিয়ম (কাজ, খাদ্য, সৈন্য), অনুপাত:সমানুপাত, সংখ্যা পদ্ধতি, বীজগাণিতিক মান নির্ণয়, উৎপাদক নির্ণয়, গড়, মধ্যক, প্রচুরক নির্ণয়, ত্রিভুজক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, আয়তক্ষেত্রের বেসিক সূত্রের অংকসমূহ, সরলরেখা, ধারা, গাছের উচ্চতা/মিনারের উচ্চতা/মইয়ের দৈর্ঘ্য/সূর্যের উন্নতি কোন ইত্যাদি বিষয়ক অংকসমূহ।

সাধারণ জ্ঞান, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও কম্পিউটার: এই অংশে ভাল করার জন্য খুব বেশি পড়তে হবেনা। সাধারণ জ্ঞান অংশে ১৪/১৫ টার মত প্রশ্ন আসতে পারে তার ভিতর ১০-১২ টাই হবে সালের রিপিট প্রশ্ন।বাকী ২/৩ টা সাম্প্রতিক বিষায়াবলী দিতে পারে। তারপরও ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ,বাংলাদেশের জনপদ, নদ-নদী, বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য অন্তর্জাতিক সংগঠন, জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন, বিশ্বের বিভিন্ন শহরের নাম ইত্যাদি।

বিজ্ঞান থেকে দু’তিনটি কমন প্রশ্ন আসবে যেগুলো চোখের পলকে গোল্লা ভরাট করা যাবে মানে হরহামেশা রিপিটেড সাল। কম্পিউটার থেকে একটি বা দু’টি প্রশ্ন আসবে একেবারে বেসিক কম্পিউটার থেকে। নিজের মগজের সফটওয়্যার থেকে কম্পিউটারের বৃত্ত ভরাট করবেন।

মৌখিক পরীক্ষাঃ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরই শুধু মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় থাকবে ২০ নম্বর। একাডেমিক ফলাফল বা শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর থাকবে ৫ নম্বর। এক্সট্রা কারিকুলাম (নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি) এর ওপর বরাদ্দ থাকবে ৫ নম্বর।বাকি ১০ নম্বর থাকবে সাধারণ জ্ঞানের ওপর। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রার্থীর নিজ জেলার থানা বা উপজেলার আয়তন, জনসংখ্যা, সংস্কৃতি, জেলার ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।

একটি বিষয় সাবধান না করলেই নয়। অনেকেই নিয়োগের জন্য অসৎ উপায় অবলম্বন করেন। যা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতো আত্মঘাতী। কিছু প্রতারক চক্র সর্বদাই চাকুরি প্রার্থীদের টার্গেট করে নানা রকম লোভনীয় প্রস্তাব দেয়, আর প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ তাদের বড় টার্গেট। এগুলো কেউ কানে তুলবেন না। কেনানা এভাবে আর চাকরি পাওয়া যায়না অনেক আগেই এসবের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন যারা আপনাকে এমন প্রস্তাব দিবে যে টাকার বিনিময়ে আপনাকে সব করে দিবে, তাদের ফাঁদে ভুলেও পা দিবেন না। কারণ তাঁরা মূলত কিছুই করবে না আপনার জন্য। আপনি ভাল পরিক্ষা দিয়ে জব পেয়ে গেলে প্রতারক চক্র আপনা ক্রেডিট তাদের বানাবে, আর জব না পেলে নাবা অজুহাত দেখাবে এবং টাকা আত্মসাৎ করে দিবে। তাই ভাল করে প্রস্তুতি নিয়ে ভাল পরিক্ষা দেন ইন্শাআল্লাহ দিন শেষে জয়ী আপনিই হবেন।

About pressroom

Check Also

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ৩২ ছাড়া গতি নাই’

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ বছর করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ চলছে। বৃষ্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money