Breaking News
Home / BCS Examination / প্রথম চান্সেই বিসিএস ক্যাডার : সফলতার ভিত গড়েছেন মা

প্রথম চান্সেই বিসিএস ক্যাডার : সফলতার ভিত গড়েছেন মা

পৃথিবীর সব সন্তানের কাছেই তার মা সেরা। আমার মা সেরার সেরা। আজ আমি যে পর্যায়ে এসেছি তার পিছনে আমার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। মা আমার জন্য যে কষ্ট করেছেন তা কোনো কিছু দিয়ে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছেন, অসুস্থতায় মায়ের মমতায় সুস্থ করেছেন, রাত জেগে পড়াশোনা করিয়েছেন।

এখনও পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার কথা খুব মনে পড়ে। আমি ওই পরীক্ষায় টেলেন্টপুলে প্রথম স্থান অধিকার করি। এই ফলাফলের শতভাগ কৃতিত্বই আমার মায়ের। সারা বছর নিজে পড়ার টেবিলে বসে প্রতিটি শব্দ ধরে ধরে আমাকে পড়াতেন। মা আমাকে এমনভাবে পড়াতেন যে, আমার সঙ্গে সঙ্গে পুরো লেসন মায়েরও মুখস্থ হয়ে যেত। পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা শেষে মা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিজে নিজে বলতেন। আমি মিলিয়ে দেখতাম মায়ের উত্তরের সঙ্গে মিলিয়ে লিখতে পেরেছি কিনা।

গর্ব করার মতো আমার মায়ের নাম রিনা বেগম যিনি আমার দীর্ঘ ছাত্র জীবনের একটি শক্ত ফাউন্ডেশন তৈরি করে দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে মা অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। মায়ের কথামতো আমি ওই বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকেই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেই। আল্লাহর রহমতে ও মায়ের দোয়ায় আমি আমার জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষাতেই (৩১তম বিসিএস) মেধা কোটায় বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে নির্বাচিত হই।

মা সবসময় নামাজ পড়ে দোয়া করতেন যেন আমি বিসিএস ক্যাডার হতে পারি। আমার বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার দিন মা ভোর রাত থেকে নামাজ পড়ে প্রার্থনায় বসেন এবং পুরো ভাইভার সময়টাতেই তিনি প্রার্থনায় থাকেন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি- মায়ের দোয়াতেই আমার ভাইভা পরীক্ষা খুব ভালো হয় এবং আমি বিসিএস পুলিশের মতো একটি সম্মানজনক ক্যাডার পাই।

পরবর্তীতে সারদার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণে গেলে আমার মা আমাকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তা করতেন। প্রতিদিন রাতে মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হতো। শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য এই প্রশিক্ষণ আমি যেন কোনো ধরনের ইনজুরি ছাড়াই শেষ করতে পারি তাই ছিল ওই এক বছরে আমার মায়ের একমাত্র কামনা।

এখনো হরতাল-অবরোধে ডিউটি করার সময় মা মুঠোফোনে খোঁজ-খবর নেন। খুব সাবধানে ডিউটি করতে বলেন। আমার ডিউটি নিয়ে আমার থেকে আমার মায়ের টেনশনই বেশি থাকে। মাস শেষে মায়ের কাছে টাকা পাঠাতে গেলে মা নিতে চান না এই ভেবে যে, যদি আমার পুরো মাস চলতে কষ্ট হয়। আমার মায়ের ঋণ কোন দিনই আমার পক্ষে শোধ করা সম্ভব নয়। শুধু একটাই চাওয়া- আল্লাহ যেন আমার মাকে দীর্ঘজীবী করেন।

About pressroom

Check Also

কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলে বিসিএস ক্যাডার হন সায়মা

ডা. সায়মা সাদিয়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের লেকচারার। বাবা মো. শহিদুল্লাহ, মা শারমিন আকতার। বরিশাল সরকারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money