Breaking News
Home / BCS Examination / ন্যূনতম জিপিএ নিয়ে যেভাবে বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার পেলেন মোশারফ!

ন্যূনতম জিপিএ নিয়ে যেভাবে বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার পেলেন মোশারফ!

কলেজের সেরা ছাত্র ছিলাম। জিপিএ-৫ যে পাবো, এটা নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু যখন রেজাল্ট প্রকাশিত হলো, তখন তো মাথায় হাত! এতো খারাপ রেজাল্ট আশা করিনি। এর আগে এসএসসিতেও পেয়েছি মাত্র ৩.৫৬। এর জন্য অনেক কেঁদেছি। ভাগ্যকে দোষ দিয়েছি। তবে এত কম ফলাফলেও যে প্রশাসন ক্যাডার পাবো, তা স্বপ্নেও ভাবিনি।’ কথাগুলো বলছিলেন ৩৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার পাওয়া মো. মোশারফ হোসাইন। নরসিংদী সদর উপজেলার লোকবালী ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম

বাখরনগর। এ গ্রামেই শৈশব-কৈশোর কাটে মোশারফের। বাখরনগর গ্রামে নেই রাস্তা-ঘাট, নেই কোনো ধরনের নাগরিক সুবিধা। মোশারফ হোসাইনই ওই গ্রামের প্রথম সন্তান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। আরেকটা বিষয় এই ইউনিয়ন থেকে ইতোপূর্বে বিসিএস ক্যাডারে সুযোগ পাননি কেউই। এমনই এক প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক মো. তাহের আলীর সন্তান মোশারফের সফলতা সবাইকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অক্ষরজ্ঞানহীন মা রেজিয়া বেগমের পরিশ্রমের ফসল

আজকের মোশারফ। তিনি বলেন,’ আমার মা পড়াশোনা জানতেন না। তবে আমাকে পড়ানোর জন্য পাশের বাড়ির একজন নারীর কাছে গিয়ে আমার পড়া মুখস্ত করে আসতেন। এরপর আমাকে পড়াতেন। এভাবেই আমি পঞ্চম শ্রেণি পাস করি!’ আজকের অবস্থানে আসার পথ মসৃণ ছিল না মোশারফের। পরিবারের একমাত্র ছেলে মোশারফকে পড়াশোনার পাশাপাশি মা-বাবাকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করতে হতো। এরপরও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্কুলে

সোহেল রানা হানিফ ও কলেজে মোতাহের হোসেন স্যারের অবদনের কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। এই দুইজন শিক্ষকের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় মোশারফ আলোকবালী আ. মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলতার সাথে অনার্স (বিএসসি) এবং মাস্টার্স (এমএসসি) পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সাইন্স থেকে মাস্টার্স

(এমপিএস), মার্কেটিং বিভাগ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি আইএসআইটি থেকে কম্পিউটার সাইন্সে ডিপ্লোমা (ডিসিএসএ) করেন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ওয়াটার রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের ওপর মাস্টার্স (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রশাসন ক্যাডার পাওয়ার পেছনের গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিশ্রমের বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই এই পরিশ্রম শুরু করতে হবে। প্রতিদিন একটু একটু পড়াশোনা করতে হবে। প্রয়োজনীয়

বিষয়ের নোট রাখতে হবে।’ মোশারফ জানান, ‘শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও দৈনিক পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম।’ তিনি মনে করেন বিসিএস এ সফলতার জন্য প্রধান বিষয় হলো প্রবল ইচ্ছা এবং পরিশ্রম। এ দুটো জিনিস নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারলে সাফল্য অবশ্যই ধরা দেবে। ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, প্রিলির জন্য পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বইগুলো শেষ করা। তারপর বাজারের গতানুগতিক যেকোনো প্রকাশনীর এক সেট বইয়ের ওপর দখল সৃষ্টি করা। দ্বিতীয়ত, লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ হলো পত্রিকা এবং বই থেকে তথ্যগুলো নোট আকারে লিখে রাখা, যা ভাইভাতেও সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।’

About pressroom

Check Also

মেডিকেলে চান্স পেলেন রিকশাচালক বাবার দুই জমজ ছেলে

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার এক অটোরিকশা চালকের যমজ দুই ছেলে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money