Breaking News
Home / BCS Examination / এবার না হয় চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ুক

এবার না হয় চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ুক

কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় পত্রিকার শিরোনাম ছিল এরকম ‘চার বছরের স্নাতক শেষ হয়নি সাত বছরেও।’ ঘটনাটি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের। এরকম আরও অনেক ঘটনা আছে। বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশনজটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ লাখ

পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা আটকে আছে। সময় চলে যাচ্ছে, বয়স বাড়ছে। করোনাকালের একেকটি দিন যাচ্ছে আর কত শত বেকার চাকরিপ্রত্যাশীর চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে, তার হিসাব কে রাখে! একজন চাকরিপ্রত্যাশী বেকারের জীবনে চাকরির আবেদনের বয়স পার হওয়ার শেষ দিনগুলো যে কত গুরুত্বপূর্ণ, সে ভুক্তভোগীই শুধু বলতে পারবে। বৈশ্বিক মহামারি

করোনার প্রভাবে এলোমেলো হয়ে গেছে জীবনযাত্রা। মানুষের জীবন-জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। চাকরিপ্রত্যাশী বেকার তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। করোনার কারণে মার্চ মাসের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বন্ধ ছিল! যদিও সেপ্টেম্বর মাস থেকে সীমিত পরিসরে

কিছু কিছু চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসতে শুরু করেছে! পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার চাকরিপ্রত্যাশীদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার (পাঁচ মাস) সিদ্ধান্ত নিয়েছে (বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি বাদে)। তবে এটাই কি যথেষ্ট! করোনার এ ভয়াবহ দুর্যোগের পরিসমাপ্তি কবে ঘটবে তাও নিশ্চিত করে বলা মুশকিল! করোনার কারণে আবার সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

রয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে) সেশনজটের সম্ভাবনা বেশি!
বর্তমান প্রেক্ষাপটে লাখ লাখ চাকরিপ্রত্যাশী বেকার তরুণের চাকরির বয়স শেষ হওয়া ও সম্ভাব্য সেশনজটের কথা চিন্তা করে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো সময়ের দাবি। শুধু করোনাকালের এ সময়ে নয়, চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবিটি

দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংসদের ভেতর-বাইরেও ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। চাকরির বয়স নিয়ে তরুণ জনগোষ্ঠীর জোর আন্দোলনের মুখে কোনো কোনো সময় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছিল সর্বশেষ ১৯৯১ সালে।

তখন চাকরিতে যোগদানের বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়েছিল। যদিও তখন গড় আয়ু ছিল ৪৫ বছর। অতঃপর প্রায় ৩০ বছর পার হতে চলল। গড় আয়ুও এখন বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সবকিছুতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, ব্যবসা, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও গড় আয়ু ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক

পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। এমনকি অবসরের বয়সসীমাও বেড়েছে। কিন্তু চাকরিতে প্রবেশের বয়স আর বাড়ানো হয়নি। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বছরের পর বছর শুধু বেড়েই চলেছে। প্রত্যেক বছর গেল বছরের চেয়ে আরও বেশি চাকরিপ্রত্যাশী বাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু চাকরির ক্ষেত্র ও পদসংখ্যা সীমিত হওয়ার কারণে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাকরি পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

১৬০টিরও অধিক দেশে এখন চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০-এর অধিক। বাস্তবতা এটাই যে, এদেশে বর্তমানে লাখ লাখ ছেলেমেয়ের উচ্চশিক্ষা আছে, সনদ আছে; কিন্তু চাকরি নেই! বয়স ৩০ পার হওয়া মানে অর্জিত সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ! সহজ কথায়, কত শত কষ্ট আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করা সার্টিফিকেটের আর কোনো মূল্য নেই! তথ্য মতে, বর্তমানে প্রায়

২৭ লাখের বেশি কর্মক্ষম তরুণ-তরুণী বেকার। করোনাকালে বেকারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০-এ বেঁধে রাখার ফলে সব শিক্ষার্থীর মেধা কি আদৌ কাজে লাগানো যাচ্ছে? চাকরির বয়স বাড়ানোর অর্থ চাকরি দেওয়া নয়, বরং চাকরির আশায় ক্ষয়ে যাওয়া জীবনগাড়ির চাকা নতুন করে সচল করা! বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চাকরিতে

প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ালে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, বরং সব পর্যায়ের তারুণ্যের মেধা কাজে লাগালে দেশ এগিয়ে যাবে, বেকারত্ব কমবে। মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি দেশের ভিত্তি। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্ভাব্য সেশনজটের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া, করোনাকালে লাখ লাখ চাকরিপ্রত্যাশী বেকার তরুণের চাকরির বয়স বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের

যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষাপটে এখনই চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করা দরকার। চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর সুবিধাগুলো হলো ১. চাকরিতে যোগদানের বয়স বাড়লে সেশনজটের শিকার হওয়া তথা পড়ালেখা শেষ করা কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা চাকরির পড়াশোনায় প্রস্তুতি গ্রহণে বেশি সময় পাবে। ২. উন্নত

দেশগুলোর সঙ্গে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার সমন্বয় হবে। ৩. শিক্ষিত বেকারের হার কমবে। ৪. রাষ্ট্র সব শিক্ষিত তরুণের মেধা কাজে লাগাতে পারবে। ৫. মেধা পাচার বন্ধ হবে। ৬. অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। ৭. রাষ্ট্র দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বেশি সময় পাবে। ৮. তরুণরা নিজেকে গুছিয়ে নিতে যেমন সময় পাবে, তেমনি বেশি বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হবে। ৯. গড় আয়ু

অনুযায়ী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার সমন্বয় হবে। ১০. বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনায় অবসরের বয়সসীমাও বাড়ানো যাবে। ১১. শিক্ষিত তরুণদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা গেলে বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনা বন্ধ হবে এবং ১২. সর্বোপরি তরুণ জনগোষ্ঠী ও উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন সুদৃঢ় হবে।

সাধন সরকার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)
৫/এ, নারিন্দা রোড, সূত্রাপুর, ঢাকা
sadonsarker2005@gmail.com

About pressroom

Check Also

অবশেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কৌশল জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

করোনার কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘স্কুলগুলোর ক্লাস কখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money