Breaking News
Home / BCS Examination / ৩৬ ও ৩৭তম প্রিলিতে ফেল, ৩৮তম বিসিএসে অ্যাডমিন ক্যাডার

৩৬ ও ৩৭তম প্রিলিতে ফেল, ৩৮তম বিসিএসে অ্যাডমিন ক্যাডার

ফয়সল মাহমুদের বেড়ে ওঠা মেঘনা নদীর উপকূলে। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তিনি। পিতা হামিদ উল্লাহ সমাজসেবক ও মাতা রোকেয়া বেগম গৃহিনী। পরিবারের ছয় ভাইবোনের মধ্যে ফয়সাল পঞ্চম। ২০০৭ সালে নিজ গ্রামের স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪.৯৪ পেয়ে উপজেলায় প্রথম হন। এরপর ভর্তি হন নোয়াখালী সরকারি কলেজে। সেখান থেকে ২০০৯ সালে ৪.৯০ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিলো মেড়িক্যালে পড়ে

চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না ফয়সলের। অবশেষে মেডিক্যালে সুযোগ না পেয়ে ভর্তি হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লায়েড কেমেস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। এরপর সেখান থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ফয়সলের গ্রামের একজন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি আবার তার বাবার স্কুল বন্ধু। ফয়সলের বাবা সবসময় ওই বিভাগীয় কমিশনারকে

নিয়ে গর্ব করতেন আর ফয়সলকে বলতেন তোরও বিসিএস ক্যাডার হতে হবে। বাবার প্রত্যাশা পূরণের জন্য তখন থেকেই ফয়সল ভাবতেন পড়াশোনা শেষে বিসিএস দিবেন। এরপর বাবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অনার্স চতুর্থ বর্ষ থেকে বিসিএসের জন্য মোটামুটি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন ফয়সল। অনার্স সম্পন্ন করে নোবিপ্রবিতে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে চলে যান ঢাকায়। ঢাকায় গিয়ে কোচিংয়ে ভর্তি না হয়ে বাসায় বসেই বিসিএসের জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। ঢাকা থেকে নোয়াখালী এসেই

মাস্টার্সের ক্লাস-পরীক্ষা দিতেন। বাবার কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ৩৬তম বিসিএসের সার্কুলার পেয়ে আবেদন করেন ফয়সল। কিন্তু প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ফেল করেন। এরপর ৩৭তম বিসিএসের সার্কুলার পেয়ে আবার আবেদন করেন। তাতেও দ্বিতীয়বারের মতো প্রিলিতে ফেল করেন। দ্বিতীয়বার প্রিলিতে ফেল করার পর ভাবলেন বিসিএস আর হবে না তার দ্বারা। তবে হতাশ হননি তিনি। ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি দেয়ার পাশাপাশি অন্য জবের জন্য ট্রাই করা শুরু করেন। এরইমধ্যে হঠাৎ

পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর রাজশাহীর সারদায় পুলিশ ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে ট্রেনিং শুরুর দু’মাসের মাথায় বিসিএস প্রিলিমিনারি রেজাল্ট হয়। তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় প্রিলিতে উত্তীর্ণ হন ফয়সল। একদিকে পুলিশের ট্রেনিং অন্যদিকে বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। ভাবতেন মাঠে এত কঠিন পরিশ্রম করে পড়াশোনা কিভাবে করবেন। বাবা আর ২-৩ জন পুলিশের সহকর্মী খুব উৎসাহ দিতেন বিসিএসের জন্য পড়ার। একবার মনস্থির করলেন পুলিশের জব

ছেডেই দিবেন। পরে মতো পাল্টিয়ে চাকরির পাশাপাশিই শুরু করেন বিসিএসের পড়াশোনা। পুলিশ ট্রেনিং অ্যাকাডেমির একটা নিয়ম ছিল রাত ১০ টার পর রুমের লাইট অফ করা। রাত দশটার পর রুমের লাইট জ্বালানোর নিয়ম না থাকায় মসজিদে গিয়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য পড়তেন ফয়সল। এ ছাড়া প্রতিদিন দিনের বেলা আইন ক্লাসে আইনের বই ছাডা অন্য বই পডা নিষেধ থাকলেও শিক্ষকের ফাঁকি দিয়ে বিসিএসের জন্য পড়তেন। অবশেষে উত্তীর্ণ হন লিখিত পরীক্ষায়। এবার ভাইভার পালা। ভাইভা দিলেন। ভাবেননি বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারে সিলেক্ট হবেন। সদ্য প্রকাশিত ৩৮তম বিসিএসের চুড়ান্ত রেজাল্টে নিজেকে

অ্যাডমিন (সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) ক্যাডারে উত্তীর্ণদের জায়গায় দেখতে পেয়ে অনেকটাই অবাক হন তিনি। ফয়সল মাহমুদ বলেন, আমি ভাবিনি আমি অ্যাডমিন ক্যাডারে নির্বাচিত হবো। এজন্য আমার আবেগ অনুভূতি একটু বেশিই। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি বিধায় আমি অনেক খুশি। অনেক বাধা পোহাতে হয়েছে আমাকে। পুলিশ ট্রেনিং অ্যাকাডেমির নিয়ম রাত দশটায় লাইট অফ করা। আর তাই আমি মসজিদে গিয়ে রাতে পড়েছি। আইনের ক্লাস ফাকি দিয়ে বিসিএসের জন্য পড়েছি। অনার্স-মাস্টার্সে রেজাল্ট তেমন ভালো ছিল না আমার। পুলিশ ট্রেনিংয়ে আমি এক বছরসহ

বাংলাদেশ পুলিশে প্রায় আড়াই বছর উপ-পরিদর্শক হিসাবে সততা, নিষ্ঠা, ও মানবিকতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যেখানে পোস্টিং হয় সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করব, দেশের জন্য কাজ করব। বিসিএস যাদের স্বপ্ন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি তৃতীয়বারের মাথায় সফল হয়েছি। তাই হতাশ হওয়া যাবে না। লেগে থাকলে সফলতা আসবেই। তথ্যসূত্রঃ কালের কণ্ঠ

About pressroom

Check Also

শুরুটা ২১ লাখ টাকায়, চার বছরে ৯ হাজার ৮০০ কোটি!

নাম অঙ্কিতি বসু। মাত্র ২১ লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। চার বছরের মাথায় তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money