Breaking News
Home / BCS Examination / প্রশাসন ক্যাডার পেয়েছি অথচ এর ওপর প্রশ্ন করেনি

প্রশাসন ক্যাডার পেয়েছি অথচ এর ওপর প্রশ্ন করেনি

চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন নুসরাত ফাতিমা শশী। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর মুখে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনেছেন পাঠান সোহাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছি। মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে জীবনের প্রথম ভাইভা দিই ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালে। ভাইভা বোর্ডের সব প্রশ্নই ছিল কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর। পাঠ্য বই থেকে তেমন কোনো প্রশ্ন করেনি। আমি বলতে গেলে কিছুই পারিনি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে গিয়ে সিনিয়রদের কাছ থেকে কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নিই।

আর কিছু উত্তর বের করি ইন্টারনেট ঘেঁটে। কাকতালীয়ভাবে পরের দিন আবার ডাকা হয় দ্বিতীয় ভাইভার জন্য। সেদিনও আমাকে আগের প্রশ্নগুলো করা হয়। যেমন—ডিজোলোশন কিভাবে কাজ করে? এইচপিএলসি কী? ডিজইন্টিগ্রেশন কী? এটি কিভাবে কাজ করে। সঙ্গে ল্যাব সম্পর্কিত প্রশ্নও ছিল। সব প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিই। বোর্ডের সদ্যসরা খুশি হন। তখনই মনে হয়েছে—চাকরি হবে। পরে ‘কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার’ হিসেবে জয়েন করি। সেখানে আড়াই বছর চাকরি করার পর হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালে আবেদন করি। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরে

আমাকে প্রশ্ন করা হয়—জন কেরি কে? আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কী? সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে পররাষ্ট্রনীতির কথা বলা আছে? বেশির ভাগ প্রশ্ন পররাষ্ট্র ক্যাডারভিত্তিকই করা হয়েছিল

৯০ পেয়েছিলাম। নামে মাত্র ভাইভা হয়েছিল। ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কাজ করব কি না সেটা মানসিকভাবে যাচাই করেন। সেখানে ‘রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অফিসার’ হিসেবে এক বছর চাকরি করি। এর মধ্যে ৩৩তম বিসিএস দিলেও প্রিলিমিনারি টপকাতে পারিনি। পরে ৩৪তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি, রিটেনের পর ভাইভা দেওয়ার সুযোগ হয়। শাড়ি পরে ভাইভা দিতে যাই। আমাকে ১৫ মিনিটে ২০টির মতো প্রশ্ন করা হয়। সব প্রশ্নই সহজ ছিল। প্রথম প্রশ্নটি ছিল—পররাষ্ট্র ক্যাডার প্রথম পছন্দ কেন? ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভারত সফরে এসেছিলেন।

এ দুটি বিষয় থেকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্ন ছিল, ‘নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসায় এ দেশের কী কী উন্নয়ন হতে পারে? দেশে ইনভেস্ট বাড়াতে আমি তাঁদের সঙ্গে কিভাবে ডিল করব?’ এর ওপর একটা বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়। শেষের দিকে আমাকে প্রশ্ন করা হয়—জন কেরি কে? আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কী? সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে পররাষ্ট্রনীতির কথা বলা আছে? বেশির ভাগ প্রশ্ন পররাষ্ট্র ক্যাডারভিত্তিকই করা হয়েছিল। কিছু প্রশ্ন মুক্তিযুদ্ধের ওপর ছিল। আমাকে প্রশ্ন করা হয়—‘মুক্তিযুদ্ধের ওপর কয়টি বই পড়েছ? লেখকের নাম বলতে পারবে? বইগুলো থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বলে ব্যাখ্যা করো।’ উত্তরে বলি, ৯টি বই পড়েছি। চরমপত্র, আমি বিজয় দেখেছি, বঙ্গবন্ধু

শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজিবনীসহ সব কয়টি বইয়ের লেখকের নাম বলেছি।

লেখকের নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে লেখক সম্পর্কে প্রশ্ন করা শুরু করলেন। একপর্যায়ে প্রশ্ন করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে। বিভিন্ন বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে উত্তর দিই। ভাইভা নিয়ে কিছুটা ভীতি থাকলেও ভাইভা বোর্ডে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করেছি। ভাইভা দিয়েই বুঝে গেছি—কোনো না কোনো ক্যাডার পাব। তবে একটা মজার বিষয় হলো, আমার প্রশাসন ক্যাডার পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় ছিল। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।

ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, আমি পররাষ্ট্র ক্যাডার পাইনি; পেয়েছি প্রশাসন ক্যাডার।

বর্তমানে আমি সুনামগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছি। এ চাকরিতে দুই বছর ৯ মাস চলছে।

নতুন প্রার্থীদের উদ্দেশে বলব, পরিপাটি পোশাকে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হোন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর দিন। তবে নিজের মতামত উত্তরের সঙ্গে জুড়ে দেবেন না। যতটা সম্ভব

বিভিন্ন বইসহ মনীষীদের রেফারেন্স দিয়ে উত্তর দিন।

সঠিক উত্তর না পারলে সরাসরি বলে দিন—এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই।

About pressroom

Check Also

মেডিকেলে চান্স পেলেন রিকশাচালক বাবার দুই জমজ ছেলে

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার এক অটোরিকশা চালকের যমজ দুই ছেলে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money