Breaking News
Home / BCS Examination / টিউশন ছেড়ে উদ্যোক্তা, কলেজ ছাত্রী মিমি এখন লাখপতি

টিউশন ছেড়ে উদ্যোক্তা, কলেজ ছাত্রী মিমি এখন লাখপতি

চলতি বছরেরর এপ্রিলে কুমিল্লার খাদি থ্রি পিস ও পাঞ্জাবি নিয়ে মিমি শুরু করে ই-কমার্স উদ্যোগ ‘পল্লীর হাঁট’। প্রাচীনকাল থেকেই এই উপমহাদেশে হস্তচালিত তাঁতশিল্প ছিল জগদ্বিখ্যাত। দেশের চাহিদা মিটিয়ে সবসময় এই তাঁতের কাপড় বিদেশেও রপ্তানি হত। কুমিল্লার খাদি কাপড়ের কদর আজও বিশ্বজুড়ে। মিমি উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে এই চিন্তাগুলোই কাজ করছিল। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন তিনি। আর শুনিয়েছেন লাখপতি হওয়ারও গল্প। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কুভিক প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মারুফ-

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো?
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের (কুভিক) চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী কামরুন নাহার মিমি। জেলার দেবিদ্বারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। কৃষক বাবার বড় মেয়ে ছোট বেলা থেকেই আত্ননির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসছিল।

২০১৬ সালে মিমি কুমিল্লা শহরে আসে পড়াশোনার জন্য। কুমিল্লায় এসেই শুরু করেন টিউশন ও প্রাইভেট পড়ানো। টিউশনের টাকাতেই চলতো তার পড়াশোনা। হঠাৎ বন্ধুদের মাধ্যমে যুক্ত হয় উইমেন্ড এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) নামক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে। এরপরেই আসে উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা। আর তখন থেকে তার আত্ননির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে।

কামরুন নাহার মিমি: সব সময় ইচ্ছা ছিল নিজের জন্য নিজেই কিছু করবো। আমার বন্ধু কারিমা আক্তার রুমি আমাকে এই পথ দেখায়৷ সে আমাকে একটা ফেজবুক গ্রুপে জয়েন করে। গ্রুপটাতে অনেক উদ্যোক্তা দেখি৷ আমার ধীরে ধীরে খাদি নিয়ে কাজ করার চিন্তা আসে। পরে আমি আমার ছোট কাকার সাথে এই বিষয়টা শেয়ার করি। কাকা আমাকে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করে। পরে কাকাই আমাকে তাঁতি বাড়িতে নিয়ে যায়। প্রথমে আমি পাঞ্জাবি আর থ্রি-পিস নিয়ে শুরু করি। পরে শাড়ি ও বিভিন্ন পণ্য যুক্ত করি। এভাবেই আমার শুরু। ই-কমার্স করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও অফিসের প্রয়োজন নেই। সবদিক থেকেই পরে ই-কমার্স পেশা আমার স্বপ্ন থেকে সত্যিতে পরিনত হয়।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার চ্যালেঞ্জ গুলো কিভাবে মোকাবেলা করেছেন?

কামরুন নাহার মিমি: উদ্যোক্তা জীবন মানেই চ্যালেঞ্জে ভরপুর আর নারী হলেতো কথাই নেই। কিন্তু আমার বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন কেননা আমাকে পরিবার থেকে সাপোর্ট দিয়েছে। তেমন কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়নি। এসব ক্ষেত্রে আমি বেশি সাপোর্ট পেয়েছি আমার ছোট কাকা সোহেলের কাছ থেকে। কিন্তু ঝামেলায় পড়েছি প্রোডাক্ট পাঠানো নিয়ে। লকডাউনের মাঝের প্রতি সপ্তাহে ৩/৪ বার বাড়ি থেকে কুমিল্লা যেতে হতো শুধু কুরিয়ার করার জন্য। কারন আশাপাশে কোন কুরিয়ার ছিল না। যেহেতু শুরু থেকে প্রোডাক্ট প্যাকেজিং, কাস্টমার, ডেলিভারি সবকিছু একা ম্যানেজ করতে হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমার উদ্যোক্তা জীবন ভীষন চ্যালেঞ্জিং ছিলো। মূলত আমার কাজের প্রতি আন্তরিকতা আর ভালোবাসাই এসব চ্যালেঞ্জ জয় করতে সাহায্য করে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: উই থেকে প্রাপ্তি গুলো কি?

কামরুন নাহার মিমি: উইমেন্ড এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) দেশী পণ্যের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম। আমরা যারা দেশী পণ্য নিয়ে কাজ করি তাদের জন্য উই ফেসবুক গ্রুপ একটা আত্নবিশ্বাসের জায়গা। উইতে এসে মাত্র ৫ মাসে আমি যে নাম ও সম্মান পেয়েছি তা আমাকে আরো পাঁচ বছর এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসা গুটিয়ে বসে থাকাতে হতো সেখানে উইতে এক্টিভ থেকে লাখ টাকা সেল পেয়েছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

কামরুন নাহার মিমি: ‘পল্লীর হাট’ নিয়ে আমার একটা লক্ষ্য আছে। আমি নিজেই একটা শো-রুম করার চিন্তা আছে। তবে সেটা আরও সময় লাগবে। মূল কথা হলো কুমিল্লার খাদি নতুন ডিজাইনে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দিতে চাই।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার লাখপতি হওয়ার অনুভূতি কি?

কামরুন নাহার মিমি: আমি সত্যিই লাখপতি হবো এমন আশায় এটা শুরু করিনি। কিন্তু উই গ্রুপ আর আমার বন্ধুদের সাহায্য ও আমার কাকার সাহায্যে এতটুকু এসেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার পণ্য বিক্রয় করেছি। উনাদের ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও যারা বেকার তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহবান জানায়।

About pressroom

Check Also

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ৩২ ছাড়া গতি নাই’

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ বছর করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ চলছে। বৃষ্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money