Breaking News
Home / BCS Examination / ৮ ঘণ্টার রুটিন মেনে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির রনি এখন ম্যাজিস্ট্রেট

৮ ঘণ্টার রুটিন মেনে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির রনি এখন ম্যাজিস্ট্রেট

নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরতরত রয়েছেন আসাদুজ্জামান রনি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৭তম ব্যাচের একজন সদস্য। বিসিএসে তার অভিজ্ঞতাসহ নতুনদের জন্য নানান পরামর্শ নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবদুর রহমান-

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কবে থেকে?
আসাদুজ্জামান রনি: আসলে আমার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে আশার মূল কারণ হলো আমার মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ। আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক, মা গৃহিণী। আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছি। অনার্স শেষ করার পরপর আমি তাদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আমার সর্বোচ্চ পরিশ্রমটুকু করে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার দৈনন্দিন পড়াশোনার রুটিন কেমন ছিল? প্রতিদিন প্রস্তুতির পেছনে কয় ঘণ্টা করে সময় দিয়েছেন?
আসাদুজ্জামান রনি: আমি রুটিন করে পড়াশোনা করেছি এবং রুটিন শতভাগ মেইনটেইন করেছি। সকাল ৬টা থেকে ৯টা, দুপুর ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা, সন্ধ্যা সাড়ে ৭ থেকে রাত ১০টা। এরপর ৩০ মিনিট বিরতি দিয়ে একটানা রাত ১২টা পর্যন্ত পড়েছি। আমি মনে করি ৮ থেকে ৯ ঘন্টা সময় দিতে পারলে আর মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএসকেই কেন আইডেন্টিটি হিসেবে নিতে হবে বলে আপনার মনে হলো?
আসাদুজ্জামান রনি: আসলে পূর্বেই উল্লেখ করেছি, আমার এই চাকরিতে আসার মূল কারণ হলো আমার মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করা। তবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস তথা ক্যাডার সার্ভিসের সামাজিক মর্যাদা, বর্তমান বেতন কাঠামো এবং জব সিকিউরিটি সবকিছু মিলিয়েই এটা আমাকে আকর্ষণ করেছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএস মানেই কী ট্যালেন্টের মাপকাঠি?
আসাদুজ্জামান রনি: একথা নিঃসন্দেহে সত্যি যে, বিসিএসে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা এই তিনটি স্তরে স্ক্রিনিং হয়ে যোগ্যরাই ক্যাডার সার্ভিসের পদায়ন পায়। তবুও বিসিএসই ট্যালেন্টের মাপকাঠি হতে পারে না। এমন অনেক মেধাবী রয়েছেন যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেন না, আবার অনেকেই যে সাবজেক্ট নিয়ে অনার্স বা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন তারা সাবজেক্ট রিলেটেড ফিল্ড এই কাজ করতে পছন্দ করেন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএসে আসার গল্পটা যদি বলতেন ?
আসাদুজ্জামান রনি: আমি অনার্স শেষ করে প্রস্তুতি নিয়ে ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি, সেবার নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদ ‘টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রভাষক’ পদে সুপারিশ প্রাপ্ত হই। পরবর্তীতে নিজের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাসের জন্ম নেয় যে, আর একটু বেশি পরিশ্রম করতে পারলে আমি ক্যাডার হতে পারবো। কিন্তু ৩৫তম ও ৩৬তম বিসিএসেও নন-ক্যাডারের জন্য সুপারিশ প্রাপ্ত হই। ৩৪তম বিসিএসে যেহেতু প্রথম শ্রেণির পদে সুপারিশ করা হয়েছিল তাই ৩৫তম ও ৩৬তম বিসিএসে কোন পদে সুপারিশ করা হয়নি। অবশেষে ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষায় আমি আমার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে সমর্থ হই। আমার মা-বাবার দোয়া ও অনুপ্রেরণায় আমি আমার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: একাডেমিক ও বিসিএস কোনটাকে গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছেন?
আসাদুজ্জামান রনি: আমি মূলত বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করি অনার্স শেষ করার পর। তাই আমি একাডেমিক পড়াশোনা শেষ করে বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: নবীনদের বিসিএস প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?
আসাদুজ্জামান রনি: বিসিএস প্রত্যাশিদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো, সিলেবাস অনুযায়ী রুটিন করে প্রত্যেকটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করলে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব। প্রস্তুতিকালীন সময়ে স্মার্ট ফোন থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততটাই অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকা যায়।

এছাড়া যে বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে সেগুলো হলো- বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করা, ইংরেজি, গণিত ও মানসিক দক্ষতার জন্য বেশি বেশি অনুশীলন করা, যে বিষয়ে বেশি দুর্বলতা আছে সে বিষয়ে বেশি সময় দেয়া, যেহেতু প্রিলিতে নেগেটিভ মার্কিং আছে তাই বৃত্ত ভরাটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা ইত্যাদি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতী কিভাবে নিয়েছেন?
আসাদুজ্জামান রনি: প্রিলির ক্ষেত্রে এক বিষয়ের জন্য অনেক বই না পড়ে যেকোন একটা বই ফলো করা, বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান, সিলেবাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রুটিন করে পড়া, শেষ মুহুর্তে ডাইজেস্ট- এই কয়েকটি বিষয় কাভার করতে পারলে প্রিলিতে ভালো করা সম্ভব।

লিখিত পরীক্ষার জন্য কোচিং করা যেতে পারে, আর প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির সময় যে টপিকগুলো পড়বে তা খুঁটিনাটি পড়তে হবে, এতে করে লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের অনেক অংশই কাভার হয়ে যাবে। কেউ যদি কোচিং না করতে চায় তাহলেও সমস্যা নাই-প্রিলির মতো রুটিন করে ৮-৯ ঘন্টা পড়াশোনা করলেই আশা করি ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ভাইভার প্রস্তুতি কেমন হতে হয়?
আসাদুজ্জামান রনি: ভাইভার ক্ষেত্রে আসলে নির্ধারিত কোনো সিলেবাস নেই, ক্যাডার চয়েস অনুযায়ী চয়েস লিস্টের প্রথম দিকের ৩-৪টা ক্যাডারভিত্তিক ভাইভা প্রস্তুতির বই ভালো করে রপ্ত করতে হবে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী সমসাময়িক ঘটনাবলী, বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশসমূহ ইত্যাদি সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা রাখতে হবে। চাইলে ভাইভার জন্য কোচিংও করা যেতে পারে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএস ক্যাডার হবার পর আপনার অনুভূতি কেমন?
আসাদুজ্জামান রনি: আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রাপ্তি হলে তা আসলেই এক অন্যরকম অনুভূতির জন্ম দেয়। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার প্রার্থনা, আমি যেনো আমার সততা, দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার সাথে আমার কর্মজীবন শেষ করতে পারি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আসাদুজ্জামান রনি: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের জন্য শুভ কামনা রইল। ধন্যবাদ।

About pressroom

Check Also

গোয়ালঘরেই সারাদিন পড়াশোনা, প্রথম চেষ্টাতেই বিচারক সোনাল

রাতে ঘুমনো ছাড়া সারা দিন গোয়ালেই কাটত তাঁর। গরু এবং গরুর পাশে জড়ো করে রাখা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money