Breaking News
Home / BCS Examination / বিসিএস প্রিলির পূর্বসন্ধ্যাটা যেমন হওয়া চাই

বিসিএস প্রিলির পূর্বসন্ধ্যাটা যেমন হওয়া চাই

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তরে আমকে আমার কী যে আপন মনে হচ্ছিল! বেচারা কাঁঠালকে সহ্যই হচ্ছিলো না৷ বড্ড বেমানান লাগছিল।

একেই বলে এক্সাম হল। আহা প্রিলি! কেউ আমাকে স্রেফ দাঁড় করিয়ে রাখলেও তাকে রীতিমতো কানে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা আমার অভ্যেস। কোনো প্রশ্ন আমাকে কনফিউসড্ করলে, ওটাকে আপাতত ডিভোর্স দিয়ে আমি পরেরটায় চলে যাই। ভাবতেই মজা পাই, সেকেন্ড-টাইম-অ্যাটেমপ্টের ওয়েটিং রুমে ‘আম নাকি কাঁঠাল’ এটা ভাবতে-ভাবতে আমি ওপরের প্রশ্নটাকেও বসিয়ে রেখেছিলাম। এবং মহানন্দে আত্মবিশ্বাসের সাথে ‘আম’ দাগিয়েছিলাম। বেচারা ঘোড়া সেদিন আমার জন্য কষ্ট করে ডিম পেড়েছিল। সেই প্রশ্নে।

• দীর্ঘশ্বাস নিতে-নিতে চমৎকার কিছু কল্পনায় আনলে নাকি টেনশন কমে। কী জানি! আমি দেখেছি, টেনশন কমানো নিয়ে ভাবলেই বরং টেনশন বাড়তে থাকে৷ পরীক্ষার আগের দিন টেনশন করাও তো একটা সাধারণ ভদ্রতা। ওটা নাহয় একটু থাকলোই! ওকে পাত্তা কম দিন।

• পুরনো সাফল্যের কথা ভাবতে পারেন। মা-বাবা’র মুখের হাসি মনে করে আপনার চোখ দুটোই নাহয় একটু হেসে নিক।

• উল্টা-পাল্টা ভাবতে ভাল লাগলে ওটাই ভাবুন। ইফ ইউ আর গোয়িং থ্রু হেল, কিপ গোয়িং- আমি এই মন্ত্রে বিশ্বাসী (তবে, একটু ভিন্নদৃষ্টিতে)। যা ইচ্ছে তা-ই ভাবতে থাকুন, ভাবনা বাধা পেলে দুর্ভাবনাই বাড়ে।

• আজকের জন্যে পড়াশোনা শিকেয় তুলে রাখুন। যতই পড়বেন, ততই মনে হবে, এটার উত্তর কালকে মনে থাকবেতো? (এটা আসবে, এটা কে বললো?) কেনো আগে আরো একটু ভালভাবে পড়লাম না? (ভাব ধরেন, না?) এই প্রশ্নের উত্তর আমি যেটা জানি, সেটা ঠিক তো? (ঠিক না হলেই বা কী?) অমুককে একটা ফোন দিয়ে দেখি। (আপনি কি শিওর যে, ও নিজেই আপনাকে জিজ্ঞেস করার জন্যে ওয়েট করছে না?) . . . . . . ইচ্ছে হলে আপনার বনলতা সেন’কে (যদি থাকে আদৌ) একটা কল দিন। দু’দণ্ড শান্তির আশায়। একটু চুমুই না হয় খেলেন। ফোনে। পেইনফুল বি

সিএস’কে ঘুমুতে দিন একটু। অনেক দৌড়েছে সে।

• একটা ফ্যাক্ট শেয়ার করি। কিছু কঠিন প্রশ্ন থাকে যেগুলো বারবার পড়লেও মনে থাকে না। সেগুলো মনে রাখার চেষ্টা বাদ দিন। কারণ এই ধরনের একটি প্রশ্ন আরো কয়েকটি সহজ প্রশ্নকে মাথা থেকে বের করে দেয়৷ জাস্ট সে নো টু দেম।

• আপনি কী জানেন, তার চেয়ে বেশি ইমপর্টেন্ট হলো আপনি যা জানেন তা কতটা কাজে লাগাতে পারছেন। যারা অনেক জানেন, তারা বেশিরভাগ সময়েই যারা অনেক জানেন না, তাদেরকে সহজ টার্গেট ভেবে আনডারএস্টিমেট করেন৷ ভাবনার এই স্বাচ্ছন্দ্যই ওদের ক্রমশ দুর্বল আর ভালনারেবল্ করে দেয়। এটাকে কাজে লাগাতে পারলেই মজা। অতিপণ্ডিতদের ফেল করতে দেখার মজাই আলাদা! নিজে পাস করলেও এতো মজা লাগে না। এই পৃথিবীতে নোবডি হয়ে থেকে আসলে কোনও লাভ নাই। যে যা-ই বলুক, এটা নিশ্চিত, নোবডি-দের জন্যে এই পৃথিবীতে শুধু নাথিং-ই বরাদ্দ থাকে।

• সব প্রশ্নের উত্তর করতে যাবেন না ভুলেও। প্রিলিমিনারি হাইয়েস্ট মার্কস্ পাওয়ার পরীক্ষা নয়, স্রেফ পাস করার পরীক্ষা। কিছুকিছু ডিফিকাল্ট আর কনফিউজিং প্রশ্ন ছেড়ে দেওয়ার উদারতা দেখান, কিপ্টেমিটুকু আপাততঃ জমিয়ে রাখুন রিটেন এক্জামের জন্য।

• ব্লাইন্ড-গ্যেসিং করতে যাবেন না, তবে কিছুটা ইন্টেলেকচুয়াল-গ্যেসিং করলে কোনো দোষ নেই। ৬টা প্রশ্ন ছেড়ে জিরো পাওয়ার চাইতে ৩টা কারেক্ট করে ১.৫ পাওয়া অনেক ভাল। ভুল করুন বুদ্ধি খাটিয়ে। সফলভাবে ব্যর্থ হওয়াটাও কিন্তু মস্ত বড়ো একটা আর্ট। এমনভাবে পরীক্ষা দিন যাতে পরবর্তীতে নিজের ভুলগুলোকে ‘মধুর’ মনে হয়। এই বিলাসিতা বড়ো সুখের। আহা!

• কম্পিটিটিভ এক্সামগুলোতে ভাল করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির চাইতে আত্মবিশ্বাস বেশি কাজে লাগে। আই অ্যাম দ্য বেস্ট, এই ভাবটা এক্জাম হলে ধরে রাখুন। এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে! একটি প্রশ্নের উত্তর নিজে ভুল করলে যতটা না মেজাজ খারাপ হয়, তার চাইতে অনেক বেশি মেজাজ খারাপ হয় কারো কাছ থেকে শুনে ভুল করলে। (তখন মনে হয়, ইসস্ এটা তো আমি নিজেনিজে পারতাম! . . . . . . . কী ভাব!!)

• প্রশ্নে দু’-একটা ছোটো-খাটো ভুল থাকতেই পারে। এটা নিয়ে মাথা খারাপ করার কিছু নেই৷ সমস্যা হলে তো সবারই হবে, আপনার একার নয়! নার্ভাসনেস দূর করার চেষ্টা করুন, কারণ ওতে প্রশ্নগুলো তো আর সহজ হবে না, বরং সহজ প্রশ্ন ভুল উত্তর করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। (আমি এভাবে কয়েকটা ভুল করেছিলাম। হি হি হি…) মনে রাখুন, কিউ সেরা সেরা- যা হবার তা হবেই।

• এই সময়টাতে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে পড়া শেয়ার করা বন্ধ করে দিন। বন্ধুদের প্রিপারেশন্ ভাল না শুনলে মন খারাপ হয়, আর প্রিপারেশন আপনার চেয়েও ভাল (এটাই বেশি মাথায় ঘোরে), এটা শুনলে কিন্তু মেজাজ খারাপ হয়! কেউ আপনার চাইতে ভাল স্টুডেন্ট হওয়া মানেই এই নয় যে, উনিই শুধু প্রিলিমিনারি পাস করবেন, আপনি করবেন না। শেষ হাসিটা হাসার চেষ্টা করুন। সাফল্য কখনোই ডিজার্ভ করা যায় না, তাকে আর্ন করতে হয়।

• এই সন্ধ্যায় এমন কিছু করুন যা করতে আপনি এনজয় করেন। আমি একাডেমিক পড়াশোনা মোটেই এনজয় করিনা। যতটুকু মনে পড়ে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় আমি ইনস্ট্রুমেন্টাল শুনছিলাম আঙুল নাচিয়ে। হোয়্যার ডু আই বিগিন . . . . . লা লা লা ……. এরপর মুভি। কোন মুভি? …. আই’ম গনা মেক হিম অ্যান অফার হি ক্যান্ট রিফিউজ। …. ক্যুইজ। পারবেন বলতে? …… ইয়েস ফ্রেন্ডস, মেক হিম (সাকসেস) অ্যান অফার হি ক্যান্ট রিফিউজ।

• পরীক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র গুছিয়ে নিয়ে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন। এক ঘণ্টা মাথা ঠিক রাখার জন্যে দারুণ একটা ঘুম অনেক হেল্প করে। কালকের ম্যাচ টি-টোয়েন্টি। টেন্ডুলকারের কথা ভাবুন। যে ভাল খেলে সে-ই জানে, ভাল খেলতে কী কষ্ট হয়। কতটা নার্ভ-টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়৷ প্রিপারেশন থেকে প্রিপেয়ার্ডনেস এখানে বেশি জরুরী। মাথায় রাখুন, অনলি ইওর রেজাল্টস আর রিওয়ার্ডেড, নট ইওর এফর্টস।

• সকালেও কিছু পড়ার প্রয়োজন নেই। টেনশন ফ্রি থাকুন। বাবা-মা’র প্রার্থনা আপনার সাথে আছে। আত্মবিশ্বাস রাখুন। রাস্তায় জ্যাম থাকতে পারে, তাই হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বাসা থেকে রওয়ানা হয়ে পড়ুন। তাড়াহুড়ো করবেন না। (আমার নিজের বেশিরভাগ সাফল্য অবশ্য এসেছে দৌড়ের উপর। ইলেভেনথ আওয়ার সিম্পটম খুব প্রবল আমার লাইফে। সে গল্প আরেক দিন হবে)

এই তো! আর কী! বিসিএস পরীক্ষার সকালের এক ঘণ্টা হোক আপনার। এই লেখাটা পড়ার সময় স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট টিপসগুলো খেয়াল করেছেন? না করলে, খেয়াল করার স্ট্রেসটা যেনো আবার নিতে যাবেন না ভুলেও৷ গুড লাক, ফ্রেন্ডস্!

সুশান্ত পাল
৩০তম বিসিএসে মেধায় প্রথম

About pressroom

Check Also

বিসিএস প্রস্তুতিতে ৫ পরামর্শ

বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরি যেন সোনার হরিণের চেয়েও দামি। বিসিএসসহ সকল চাকরিতে এ কথা সমানভাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money