Breaking News
Home / BCS Examination / একাডেমিক ইয়ার, অনার্সেই স্মার্ট ক্যারিয়ার

একাডেমিক ইয়ার, অনার্সেই স্মার্ট ক্যারিয়ার

যদি স্মার্টলি কাজ করতে পারেন তবে আপনি যখন অনার্স শেষ করে নিজেকে জবের জন্য প্রিপেয়ার্ড বলবেন, তখন আপনার সমবয়সী বন্ধুটি সবেমাত্র চাকরির পরীক্ষা কী বুঝতে শিখবে মাত্র। আসুন প্র্যাকটিক্যালি আলোচনা করি।

অনার্স পড়ুয়া প্রত্যেক ছাত্রের অবশ্যই টিউশন করানো দরকার। এটা তাকে ক্যারিয়ারের পথে অনেক এগিয়ে রাখে। ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বর্তমানে দেখা যায় সাধারণ জ্ঞানের বই নিয়ে হাঁটাহাটি করতে। এটাকে ক্যারিয়ার সচেতনতা বলেনা, বরং এটাকে বলে চরম অসচেতনতা।

আমি সত্যজিৎ মনে করি, সাধারণ জ্ঞানের বই না পড়ে তুমি যদি ক্লাস নাইনের একটা স্টুডেন্ট পড়াও, তবে তুমি তার ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞান এসব বই তাকে পড়ানোর মধ্য দিয়ে মূলত নিজের বেসিকটা আরো স্ট্রং করে নিতে পারবে। বিনিময়ে মাস শেষে একটা হ্যান্ডসাম টাকাও পাবে। আমিতো মনে করি খুব অল্প টাকায় হলেও টিউশন করানো দরকার নিজের স্বার্থে। বর্তমানে একটা ট্রেন্ড হয়েছে, এক সাবজেক্টের বেশি পড়ানো যাবেনা। ভাই তোমাকে বলছি, তুমি হাইস্কুলের সব সাবজেক্ট পড়াও তোমার স্টুডেন্টকে। এমনকি বাংলা, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভুগোল এসবও পড়াও, একেবারে ধরে ধরে রিডিং পড়াও। গণিত কিংবা ইংরেজির পাশাপাশি এসব পড়াও। বিশ্বাস করো এতে তোমারই লাভ বেশি হবে।

অনার্স শেষ করে তুমি যখন চাকরির প্রস্তুতি নেবে, তখন তোমার টিউশন না করা বন্ধুটি বেসিক ধারণা নিতে নাইনের সাধারণ বিজ্ঞান নিয়ে পাতা উল্টাবে। তখন তুমি দেখবে বিজ্ঞানের ৭০% প্রস্তুতি অলরেডি তোমার শেষ। তোমার টিউশন না করা বন্ধুটি যখন গণিতের বেসিক ঠিক করতে ক্লাস সেভেনের বই নিয়ে পাতা উল্টাবে, তখন তুমি জব সলিউশন খুলে অলরেডি বিগত বছরের গণিত প্রশ্নগুলোর সমাধান করা শুরু করবে। কারণ চাকরি নিয়োগের সব গণিতই মাধ্যমিক লেভেলের, যা এতদিন তুমি তোমার স্টুডেন্টদের করিয়ে এসেছো। পার্থক্যটা কত বড় দেখতে পাচ্ছ?

আমি সত্যজিৎ মনে করি, তোমাকে সাধারণ জ্ঞানের জন্য অসাধারণ কিছুই করতে হবেনা। শুধু নিয়মিত পেপার পড়ো। দেখবে পৃথিবীর কোথায় কী হচ্ছে এগুলো যখন অন্যরা মুখস্ত করবে, তখন এগুলো দেখে তোমার হাসি পাবে। কারণ তুমি এগুলো নিয়মিত পেপারে পড়েছো কাহিনীর মত।

ধরে নিচ্ছি তুমি এখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে। এখন থেকেই যদি তুমি নিয়মিত ৫ টা করে ভোকাবুলারি শেখা শুরু কর তবে বাকি ৩টা বছরে তুমি ১০৯৫ দিন সময় পাচ্ছ। দিনে ৫ টা ওয়ার্ড শিখলে ৩ বছরে অর্থাৎ ১০৯৫ দিনে তোমার ভোকাবুলারির ভান্ডারে জমা পড়বে ৫৪৭৫টা ওয়ার্ড। এই ৫৪৭৫ টা ওয়ার্ড হলো সেই ওয়ার্ড যেগুলো তোমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। জিআরই যারা করে তাদের ভোকাবুলারির হট লিস্ট দেয়া এর অর্ধেক। তার মানে তুমি কতটা এগিয়ে যাবে একবার ভাবো।

তাই বলছি, অযথা অনার্স থেকে এমপি থ্রি আর সাধারণ জ্ঞানের পেছনে না ছুটে বরং টিউশন করাও। এতে করে তোমার ক্যারিয়ারের প্রস্তুতিটাও হয়ে যাবে, সে সাথে পুরো অনার্স লাইফে তুমি নিজের টাকায় নিজে পড়াশোনা করে পুরো পৃথিবীকে একবার চিনতে পারবে। টিউশন করানো ছেলে মেয়েগুলো সাধারণত যথেষ্ট ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয় তারা পৃথিবীকে যতটা বুঝতে পারে, অন্যরা তার ধারে কাছেও যেতে পারেনা।

শুভ কামনা সবার জন্য।
Satyajit Chakraborty
Writer, Public Speaker & Corporate Trainer
Founder, Bangladesh Career Club

About pressroom

Check Also

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ৩২ ছাড়া গতি নাই’

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ বছর করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ চলছে। বৃষ্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money