Breaking News
Home / BCS Examination / শিক্ষাখাতে ফের বড় নিয়োগের সুযোগ আসছে

শিক্ষাখাতে ফের বড় নিয়োগের সুযোগ আসছে

করোনার আঘাতে বিশ্বব্যাপী শিক্ষাখাতে বেশ বড় ধাক্কা লেগেছে। এই সংকট কাটিয়ে শিক্ষাখাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় অনেক দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফলে করোনা পরবর্তী শিক্ষাখাতে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ ‍তৈরি হচ্ছে। অভিভাকরাও শিক্ষকদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

এছাড়া অনলাইন ক্লাসের কারণে শিক্ষকরা প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত হয়েছেন। মন্দার কারণে হয়তো কিছু দেশের শিক্ষাখাতের বাজেট হয়তো কমতে পারে, তবে একই সময়ে শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য তরুণ নিয়োগ পাবেন। তবে দিনশেষে পরিস্থিতি সামলাতে হলে ক্ষতিগ্রস্তরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানো হচ্ছে মহামারিতে শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি পোষানোর প্রথম ধাপ। শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের এখন প্রথম কাজ হবে কীভাবে দ্রুততম সময়ে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়, সেই পথ বের করা। ইউনেস্কো এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকিনসে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণে তিনটি কৌশল নির্ধারণ করেছে।

প্রথমত, স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, তারা পাঠ্যসূচি পুনর্নির্ধারণ করতে পারে। তৃতীয়ত, শিক্ষাদানের মান উন্নত করতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো ফল মিলবে এ তিনটির উপযুক্ত সংমিশ্রণে তৈরি কোনও পথ বের করতে পারলে।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষা গবেষণা ও সংস্কার কেন্দ্রের পরিচালক রবার্ট স্যালভিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সরকারিভাবে অর্থায়ন করতে পারে। স্কুলগুলোতে প্রশিক্ষিত গ্রাজুয়েটদের নিয়োগ দেয়া যায়। তারা শিক্ষার্থীদের একজন একজন করে অথবা ছোট ছোট দলে ভাগ করে পাঠদান করতে পারে।

এ অবস্থায় প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে শিশুদের লেখাপড়ার ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বেশ আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্য আগামী সেপ্টেম্বরে চালু হতে যাওয়া জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য ৪৩৯ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। এর আওতায় স্কুলগুলো উচ্চশিক্ষিতদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে বা বিদ্যমান কাঠামোতেই শিক্ষাদান চালিয়ে যেতে পারবে। ডাচ সরকারও অনেকটা একই ধরনের কর্মসূচি শুরু করে তাতে ২৭৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

কিছু দেশ ইতোমধ্যেই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করেছে। সিঙ্গাপুরে সাধারণত জুনে বার্ষিক ছুটি হলেও মহামারির কারণে এ বছর তা মে মাসে এগিয়ে নেয়া হয়েছে, ওই সময় লকডাউনের কারণে দেশটির বেশিরভাগ স্কুলই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভিয়েতনামের কিছু এলাকায় তিনমাসের ছুটি কমিয়ে কয়েক সপ্তাহে নামিয়ে আনা হয়েছে।

অন্য দেশগুলোতে গ্রীষ্মের ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। এই গ্রীষ্মে নিউইয়র্ক অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসের আওতায় আনছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে শিক্ষার্থীদের এসব ক্লাসে অংশগ্রহণ করানোটাই সবচেয়ে কঠিন।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির পাসি সালবার্গ বলেন, শিশুরা যতক্ষণ পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপদবোধ না করবে, তারা কিছুই শিখবে না। স্কুলগুলো খোলার পর শিশুদের কাউন্সেলিং করতে হবে এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে খেলাধুলার সুযোগ দিতে হবে।

টিউট পোর্টার-স্যামুয়েলস নামে নিউজিল্যান্ডের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, তাদের স্কুল খোলার পর দুই সপ্তাহ শুধু সঙ্গীত ও শিল্পচর্চা করানোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

About pressroom

Check Also

পুলিশের এসআই হলেন ঢাকা কলেজের ৯০ শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ পুলিশের ৩৮তম বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা কলেজের বিভিন্ন বিভাগের ৯০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money