Breaking News
Home / BCS Examination / ইলেক্ট্রিশিয়ান বাবার ছেলের বেতন ৭০ লাখ …

ইলেক্ট্রিশিয়ান বাবার ছেলের বেতন ৭০ লাখ …

টানাপেড়েনের সংসার। দিন আনে দিন খায়। একেবাবে দিনমজুর পরিবার। অভাব আর অনটনের সঙ্গে নিত্ত বসবাস। চেহারা ছবিতেই ফুটে উঠে ওই দৃশ্য। তারাই কেবল জানে ওই জীবন যুদ্ধের অবস্থা। কেবল বড় হবার স্বপ্নটাই হয় বেঁচে থাকার মূল কারণ।

সেই ছেলেবেলা থেকে নানান কষ্টে কটেছে। সংসারের হাল ধরার কেউ নেই। সবই চলতো বাবার রথের উপর। যে কষ্ট তারা পেয়ে এসেছে, ভবিষ্যৎ জীবনে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথাযথ পরিশ্রম করেছেন তারা। সময়ও কেটে গেছে। এমনি এক পরিবারে বেড়ে উঠা এক যুবকের গল্প এটি।

সেই অভাবী পরিবারের মেধাবী ছাত্রের নাম মোহাম্মদ আমির আলী। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে নানান তথ্য। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, তার বাবা পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। অথচ ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা এই ছাত্রের বার্ষিক প্যাকেজ ১ লক্ষ মার্কিন ডলার।

যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭০ লক্ষ রুপী। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী আমির টাকার অভাবে ঝারখান্ড এনআইটিতে সুযোগ পেয়েও করতে পারেনি আর্কিটেকচার কোর্স। তার হয়ে উঠেনি সেই প্রতিষ্টানের গর্বিত ছাত্র হওয়ার।

জানা যায়, ২০১৫ সালে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা ভর্তি হওয়ার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সেখানেই একটি বিশেষ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। ইলেকট্রনিক ভেহিকেল চার্জ দেওয়ার নতুন পন্থা আবিষ্কার করেছিলেন তিনি।তার মতে এই ইলেকট্রনিক কার চার্জ করাটা ভারতের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তার আবিষ্কার করা থিওরি সফল হলে চার্জিং খরচ শূন্যে নেমে আসবে। তার প্রজেক্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার একটি মোটরগাড়ি সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

তারা এই প্রজেক্টের জন্যে এখন মোহাম্মদ আমীর আলীকে বার্ষিক ৭০ লক্ষ টাকা বেতনে চাকরি দিয়েছেন। এদিকে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানাচ্ছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোন ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী এই প্রথম বারের মত এত বেতন পেলো। এটা তাদের জন্যে গর্বের। অহংকারের। এই যুবকের জন্যে তাদের কেবলই শুভ কামনা।

এসব নানান বিষয়ে আমির আলীর বাবা ইলেক্ট্রিশিয়ান শামসাদ আলী জানান, “আমির ছোট বেলা থেকেই বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও বিদ্যুতের কাজ নিয়ে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতো যা আমি ইলেক্ট্রিশিয়ান হয়েও উত্তর দিতে পারতাম না। আমি সবসময় তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছি। তার জন্য আমি আজ খুব খুশি। ”

আমিরের গবেষণা পত্র নিয়ে তিনি বলেন, “ইলেকট্রিক গাড়ি আমার প্যাশন। ভারতে এই গাড়িগুলোর চার্জিং অবকাঠামোগত অভাব মূল সমস্যা। আমি যদি আমার গবেষণায় সফল হই তবে বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জের ব্যয় প্রায় শূন্য হয়ে যাবে।

তিনি আরো জানান, এধরনের আরো বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোর মুখ দেখলেই জানান দিবেন তিনি।

About pressroom

Check Also

আবারও আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন যে সকল শিক্ষকরা

করোনার কারণে স্থবির গোটা বিশ্ব রেহাই পায়নি বাংলাদেশ ও তাই, চলমান করোনার অভিঘাতের মধ্যে আবারো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money