Breaking News
Home / Bangla / যেভাবে হলেন করোনাকালে উদ্যোক্তা হিসেবে জয়ী নিপা!

যেভাবে হলেন করোনাকালে উদ্যোক্তা হিসেবে জয়ী নিপা!

অসীম কুমার সরকার, তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা: বৈশ্বিক মহামারি করোনাতে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। অর্থনীতির চাকাও স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ক্লাস নেই। নেই পরীক্ষার বাড়তি চাপও। তাই হাতে এখন অফুরান্ত সময়। আর এই সময়কে সুর্বণ সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে আবির্ভাব হওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। বলছি এই চ্যালেঞ্জ জয়ী নিপা সেন গুপ্ত’র (২৩) কথা।

দেশীপণ্যের সব থেকে বড় অনলাইন বাজারে পরিণত হয়েছে নিপার উই। এখানে সারা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দেশীপণ্য পাওয়া যায় সব সময়। উই গ্রুপের বর্তমান সদস্য প্রায় ১০ লক্ষ। নামের সাথে তাল মিলিয়ে উই লক্ষ লক্ষ নারীকে উদ্যোক্তা হতে সহযোগিতা করেছে। সবাই এখন উই থেকে স্বপ্ন দেখছে। তেমন একজন উদ্যোক্তা নিপা সেন গুপ্ত। উইতে চলতি বছরের ১৪ জুন তারিখে যুক্ত হয়ে উইয়ের কর্ণধার রাজীব আহমেদ ও নাসিমা আক্তার নিশা কাছে ই-কমার্সে হাতেখড়ি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী যবের ছাতু ও যবের আটা নিয়ে। যব বিলুপ্ত প্রায় কৃষিপণ্য। এর খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণের কারণে প্রথম থেকেই গ্রুপ ভালো সারা আসতে থাকে। অতীত থেকেই রাজশাহী অঞ্চলে যবের চাষ হয়ে আসছে। ছাতুর প্রধান উপকরণ যবের প্রাপ্ততাও ভালো। আবার এ অঞ্চলের নারীরা যবের ছাতুও তৈরি করতে পারেন উন্নত মানের।

নিপা সেন গুপ্ত ই-কমার্সে কাজ শুরু করেন মাত্র ৫০০ টাকা মূলধন নিয়ে। উই গ্রুপের নিয়ম মেনে চলতে থাকে পরিচিতি বাড়ানোর কাজ। পাশাপাশি অল্পবিস্তর অর্ডার প্রাপ্তি। আস্তে আস্তে পরিচিতি বৃদ্ধি হতে থাকে। আসতে থাকে পজিটিভ রিভিউ। এরপর কাস্টমারের চাহিদার উপর ভিত্তি করে কাজের সাথে যোগ করেন প -ব্যঞ্জন ছাতু (যব,গম, চাল,মসুর,ছোলা)। ছাতু এ অঞ্চলের ঐতিত্যবাহী খাবার। এরপর আস্তে আস্তে যোগ হয় ভেজালমুক্ত আখের গুড়,পাবনার ঘি,গমের লাল আটা, দেশী ধানের চাল, মৌসুমী আচার, দেশীয় বিলুপ্ত প্রায় ফলের গাছ।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা নিপা সেন গুপ্ত বলেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। আমিও বাসায় বন্দি হয়ে গেলাম। সারাদিন বসে বসে দিন কাটছিলো। এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে উই গ্রুপে যুক্ত হই। এরপর এখানকার নারীদের কাজ দেখে আমি অভিভূত হয়ে যাই। প্রথমেই একটি ভালো লাগা তৈরি হয় আস্তে আস্তে শ্রদ্ধেয় রাজীব স্যার ও নাসিমা আক্তার নিশা ম্যামের দিক-নির্দেশনাগুলো ফলো করতে শুরু করলাম।

‘নিজের প্রতি একটা বিশ্বাস তৈরি হলো। আমার স্বামীর সহযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী যবের ছাতু নিয়ে কাজ শুরু করলাম। কিন্তু ভাবিনি এই ছাতু নিয়েই আমি সফল হতে পারব। বর্তমানের উই থেকে আমার বিক্রয় ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকার উপরে। আরো অনেক অর্ডার হাতে আছে। সকল নারীদের নিজের একটি পরিচয় সব সময় প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে উই গ্রুপের সবাই সবাইকে সহযোগিতা করছে।’

নিপা সেন গুপ্তর কাজের সাথে দুইজন প্রান্তিক নারী যুক্ত হয়ে নিজে আয়ের মাধ্যমে পরিবারকে সহযোগিতা করছে। তেমন এক নারী রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের নারী আবেদা বেগম(৪৮)।

তিনি বলেন ‘নিপা সেনগুপ্ত বাজার থেকে যব কিনে আমাদের কাছে দেয়। আমরাও যবগুলো পরিষ্কার করে শুকিয়ে বালুতে ভেজে দিই। এর জন্য নিয়মিত আমরা টাকা পায়। যা দিয়ে আমাদের সংসারের অনেক উপকার হয়। আমরা বাড়তি আয় করতে পারি।’

About pressroom

Check Also

১৩ জন স্ত্রীকে একসাথে গর্ভবতী বানিয়ে বিশ্বরেকর্ড করলেন স্বামী

বহুবিবাহ প্রথা ভারতে বহু বছর আগে ছিল, যেখানে একজনের একাধিক স্ত্রী থাকতো যদিও কিছু কিছু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money