Breaking News
Home / Bangla / বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অ’সংখ্য না’রীর স’র্বনাশ করেন সহকারী কমিশনার!

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অ’সংখ্য না’রীর স’র্বনাশ করেন সহকারী কমিশনার!

হবিগঞ্জ জে’লা প্রশা’সনের সাবেক সহকারী কমিশনার নাদির হোসেন শামীমের বি’রুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েকজন না’রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অ’ভিযোগ উঠেছে। ভু’ক্তভো’গী এমন দুজন না’রীর কাছ থেকে লিখিত অ’ভিযোগ পাওয়ার পর শামীমকে তলব করেছে জনপ্রশা’সন মন্ত্রণালয়।

অ’ভিযোগ ত’দন্তের জন্য রবিবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ের ১নং ভবনের ৩১৫ নম্বর কক্ষে নাদির হোসেন শামীম এবং অ’ভিযোগকারী দুই না’রীকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তাদের কাছে গত ৭ সেপ্টেম্বর উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

শামীম বর্তমানে যশোর জে’লা প্রশা’সনে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজে’লার পশ্চিম শালীহর গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। তার বি’রুদ্ধে প্র’তারণার অ’ভিযোগ আনা দুই না’রীরই বাড়ি ময়মনসিংহ জে’লায়।

তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে পেশায় শিক্ষিকা এবং আরেকজন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্রী। অ’ভিযোগকারী ওই শিক্ষিকা বলেন, সহকারী কমিশনার নাদির হোসেন শামীম হবিগঞ্জে চাকরি করার সময় ফেইসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এ বছরের শুরুতে বিয়ের প্র’লোভন দেখিয়ে সিলেটের একটি হোটেলে নিয়ে তার সঙ্গে রাত কা’টান শামীম। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে নানা ভ’য়ভী’তি ও হু’মকি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, হবিগঞ্জের জে’লা প্রশা’সকের কাছে শামীমের বি’রুদ্ধে না’লিশ নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও বি’চারের বদলে পেয়েছেন ভ’য়ভী’তি আর হু’মকি।

ভু’ক্তভো’গী এই না’রী বলেন, ‘শুধু তাই নয়, শামীমকে হবিগঞ্জ থেকে ভোলায় বদলি করে আমার বি’চার প্রাপ্তিতে প্রতিব’ন্ধকতা সৃ’ষ্টি করা হয়। তিনি কোথায় বদলি হয়েছেন সেই খবর জানতে সময় লেগেছে তিন মাস। এভাবেই দা’য় এড়িয়ে যান হবিগঞ্জ প্রশা’সনের কর্মক’র্তারা।

অ’পকর্মের কোনো বি’চার না করে শামীমকে হবিগঞ্জ থেকে ভোলা জে’লা প্রশা’সনে বদলি করা হয়। হবিগঞ্জ ও গৌরীপুর থা’নায় মা’মলা করার চে’ষ্টা করেছি। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপ’ক্ষের অ’নুমতি ছাড়া মা’মলা নেওয়া সম্ভব নয় বলে ওই দুই থা’নার ওসি জানিয়ে দেন।’

তিনি আরও জানান, গত ২৩ জুলাই ভোলার জে’লা প্রশা’সক বরাবর শামীমের বি’রুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্র’তারণার অ’ভিযোগ করেন। এর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ের বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য গত ৪ জুলাই তিনি শামীমের ময়মনসিংহের গৌরীপুরের বাসায় যান।

সেখানে শামীমের পরিবারের লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নি’র্যাতন করেন। মোবাইলে থাকা শামীমের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক সং’ক্রান্ত প্র’মাণগুলো জো’র করে মুছে দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পু’লিশ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী ঘ’টনাস্থলে যান। তখন শামীমের বাবা আবদুল কুদ্দুছ বলেন, ছেলের সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।

ভুক্তভোগী এই শিক্ষিকার দাবি, তিনি ছাড়াও আরও পাঁচজন না’রীর সঙ্গে শামীম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথিত প্রেমে জ’ড়িয়েছেন। বিয়ের প্র’লোভনে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে প্র’তারণা করেছেন। প্র’তারিতদের মধ্যে আনন্দমোহন কলেজ, বদরুন্নেছা কলেজ ও কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রী এবং চট্টগ্রামের এক না’রী রয়েছেন।

শামীমের প্র’তারণার শি’কার হয়েছেন বলে অ’ভিযোগকারী আরেক না’রীর বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্রী। ভোলার জে’লা প্রশা’সকের কাছে করা লিখিত অ’ভিযোগে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে শামীম গৌরীপুর সরকারি কলেজ হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করাকালীন আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আমি সে সময় গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলাম। ২০০৯ থেকে ’১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হয়েছেন শামীম। বর্তমানে আমি আনন্দমোহন কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হন শামীম।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি আমি এক বান্ধবীকে নিয়ে বিয়ের দা’বিতে শামীমের বাবার বাসায় অবস্থান নিই। কিন্তু অ’যৌক্তিক দা’বি নিয়ে তাদের পরিবারকে নি’র্যাতন-নিপী’ড়নের অ’ভিযোগ এনে শামীমের বাবা উল্টো আমার বি’রুদ্ধে গৌরীপুর থা’নায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর শামীমের পরিবারকে অ’নুরোধের ঘ’টনাকে ‘ভ’য়ভী’তি প্রদ’র্শন’ উল্লেখ করে তার ভাই কবীর হোসেন সুজন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আরেকটি সাধারণ ডায়রি করেন।

এদিকে শামীমের বিয়ের খবরে চট্টগ্রামের জান্নাত নামে আরেক না’রী তার স্ত্রী বলে দা’বি করেন। ওই না’রীর দা’বি, ধ’র্মীয় শরিয়া মোতাবেক বিয়ে করে শামীমের সঙ্গে আড়াই বছর ঘর-সংসারও করেছেন। তিনি এ অ’ভিযোগটি মৌখিকভাবে গৌরীপুরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থা’না পু’লিশকে অবহিত করেছেন।

শামীমের বি’রুদ্ধে ওঠা অ’ভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলার জে’লা প্রশা’সক মোহাম্ম’দ আলম সিদ্দিক বলেন, ‘শামীম গত ১০ মার্চ এখানে যোগদান করেন। দুই না’রী তার বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ জানালে তা জনপ্রশা’সন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ত’দন্তের নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে জনপ্রশা’সন মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় কর্মরত আছেন তা আমার জানা নেই।’

তবে অনুস’ন্ধানে জানা গেছে, নাদির হোসেন শামীম বর্তমানে যশোর জে’লা প্রশা’সনে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি একজন সহকারী জজকে দুই মাস আগে বিয়ে করেছেন। প্র’তারণার অ’ভিযোগের বিষয়ে জানতে শামীমের দুটি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তা ব’ন্ধ পাওয়া যায়।

About pressroom

Check Also

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার দাবি! বিস্তাতির দেখুন..

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money