বাংলা ব্লগারে আপনাকে স্বাগতম, সবার আগে সঠিক তথ্য পেতে আমাদের সাথে থাকুন সব সময়। আমাদের বেশির ভাব তথ্য বিশ্লেষন করে তারপর উপস্থাপন করা হয়। শতভাগ তথ্য অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে বিশ্লেষনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। আপনি চাইলে যে কোন তথ্য আমাদের কাছেও পাঠাতে পারেন।
তো চলুন আজকের বিষয়’টি নিয়ে পড়ে নেওয়া যাক….

প্রথম বিসিএস মানেই একটু অভিজ্ঞতা অর্জন করা। দ্বিতীয় বিসিএস দিয়ে একটু ভাইভা বোর্ড ঘুরে আসা। এভাবে বিসিএস পরীক্ষা দিতে দিতে অনেকে ক্লান্ত হয়ে যান। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করেই আপনি পেতে পারেন সাফল্য। যদি আপনার ম্যাথ আর ইংরেজির বেসিক অনেক ভালো থাকে, তাহলে একটি বাজি ধরেই দেখতে পারেন। বছরের পর বছর নয়, আট মাস পড়েই আপনিও পেতে পারেন প্রশাসন ক্যাডার।

শুনুন সে রকমই একটি গল্প। মো. আবদুল্লাহ আল বাকী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি নিয়ে। বিসিএস নিয়ে তিনি কখনও ভাবেননি। একাডেমিক পড়াশোনা করেছেন মনোযোগ দিয়ে। নিয়মিত ক্লাস, টিউটরিয়াল দিতেন গুরুত্ব সহকারে। তার প্রতিদানও পেয়েছেন স্নাতকের রেজাল্টে। সিজিপিএ ৩.৮৩ নিয়ে হয়েছেন তৃতীয়। স্নাতক শেষ করেই ভর্তি হলেন মাস্টার্সে। পাশাপাশি জিআরই, আইইএলটিএসের পড়াশোনাও করতেন একটু একটু। মাস্টার্সে ছিলেন থিসিসের ছাত্র। গবেষণায় সময় দিতে হতো বেশি। মাস্টার্সে থিসিস করতেন আইসিডিডিআরবির মলিকুলার জেনেটিক্স ল্যাবে। পরিকল্পনা ছিল দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করবেন।

তাই এর বাইরে বিসিএস নিয়ে ভাবার সময় পেতেন না। কিন্তু হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে গেল সবকিছু। এরপর ৩৬তম বিসিএসের সার্কুলার দিলে বিসিএস দেওয়ার ভূত চাপে। বিসিএস দেবেন কি দেবেন না দোটানায় থেকে অবশেষে ফরম পূরণ করেন শেষ সময়ে। ফরম যখন পূরণ করেছেন, তখন ভালো করেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেন। মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষা দিয়ে থিসিস জমা দেননি শুধু বিসিএসের জন্য। টানা তিন মাস পরিশ্রম করে অংশগ্রহণ করলেন প্রিলিতে। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিটাও শুরু করলেন তাড়াতাড়ি। নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করলেন পরিকল্পিতভাবে।

রুটিন করে নিয়মিত পড়াশোনা করলেন চার মাস। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কমপ্লিট। এরপর রিটেন দিয়ে ভাইবার প্রস্তুতি নেন এক মাস। সবশেষে রেজাল্ট বের হলে প্রশাসনে হন সপ্তম। তার প্রথম চয়েসই ছিল প্রশাসন। নিজের এ রকম সাফল্যের রহস্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় গুছিয়ে পড়া পছন্দ করতাম। একাডেমিক পড়াশোনাও করেছি এ রকম এবং বিসিএসের প্রস্তুতিও নিয়েছি সেভাবে। নিজে নোট করে পড়ার অভ্যাস ছিল।

বিসিএসেও তাই করেছি। আর খাতার উপস্থাপনেও গুরুত্ব দিয়েছি অনেক। সুন্দর করে গুছিয়ে, কোট করে উত্তরপত্র লিখতাম। উত্তরপত্রে বিভিন্ন কালারের কলমও ব্যবহার করতাম।’ বাকীর পিতা মো. আবদুর রউফ একজন শিক্ষক ও মা পারভীন আক্তার একজন গৃহিণী। নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি ও ঝিনাইদহ সরকারি কে.সি কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেন।

উভয় পরীক্ষায় পান জিপিএ ফাইভ। এরপর ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছায় মেডিকেলে পরীক্ষা দেন। ভর্তি পরীক্ষায় না টিকলে পরে জাবিতে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পান বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে। নিয়মিত পড়াশোনা করে নিজের বিভাগেও হয়েছেন তৃতীয়। এখন ইচ্ছা প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে একজন সৎ ও দক্ষ প্রশাসক হয়ে দেশের সেবা করা

News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *