রায়হান আতাহার। টানা ৪ বিসিএসে নন-ক্যাডার আসার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৪৪তম বিসিএসের পর তিনি আর কোনো বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ন হওয়ার পরও লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেননি তিনি। তবে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলে সেই ৪৪তম বিসিএসেই প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তার মেধাক্রম ১৭। সম্প্রতি বিসিএসে তার সাফল্য ও নতুনদের জন্য পরামর্শ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তার কথাগুলো শুনেছেন মামুন হোসাইন।
আপনার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অনুভূতি জানতে চাই
টানা ৪ বিসিএসে (৩৮তম, ৪০তম, ৪১তম ও ৪৩তম) নন-ক্যাডার আসার পর কিছুটা হতাশ হয়ে যাই। ভেবেছিলাম হয়তো বিসিএসে আর হবে না। ৪৪তম বিসিএসের পর বিসিএস যাত্রা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তার হয়তো অন্য পরিকল্পনা ছিল। তাই হয়তো এভাবে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলাম। আলহামদুলিল্লাহ।
আপনার বিসিএস প্রস্তুতির শুরুটা কেমন ছিল? পড়াশোনার কৌশল কী ছিল?
২০১৯ সাল থেকে চাকরিতে যুক্ত থাকায় সেভাবে গুছিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। বইপত্রও সেভাবে কেনা হয়নি। যা কেনা হয়েছিল, সেগুলোও পড়ার সময় হয়নি। নিয়মিত পত্রিকা ও বই পড়ার অভ্যাস ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় টুকটাক লেখালেখি করতাম। তাই যে কোনো টপিকে ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিংয়ে অভ্যস্ত ছিলাম। পুরো বিসিএস যাত্রায় এগুলো কাজে দিয়েছে।
বিসিএসে কৌশল নির্ধারণ একটি বড় ধাপ। নিজের স্ট্রং জোন খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। আমার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও গণিত ছিল স্ট্রং জোন। টার্গেট করতাম যেন এই দুই বিষয়ে ৯০ এর ওপরে নম্বর তুলতে পারি। আর যে কোন টপিকে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ের অভ্যাস তো ছিলই। এগুলো কাজে দিয়েছে অন্য বিষয়গুলোতে। ম্যাপ, ডাটা, টেবিল এগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করতাম।
বিসিএসে সফলতার পেছনে অনুপ্রেরণা কী ছিল?
গত বছরের জুনে বাবা মারা যান। এটা আমার জন্য একটা বড় ধাক্কা ছিল। সরকারি চাকরি করব এমন পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছিল না। মাস্টার্স করার সময় মূলত সরকারি চাকরি, বিশেষত বিসিএসের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এক্ষেত্রে আমার স্ত্রী ও পরিচিত কিছু বড় ভাই-বোন প্রেরণা দিয়েছিলেন।
কোন বিষয় মাথায় রেখে ক্যাডার চয়েজ দিয়েছিলেন?
প্রতিটি বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার প্রথম চয়েজ হিসেবে পূরণ করতাম। আর আমার শুধু জেনারেল ক্যাডার ছিল। তাই প্রথম কয়েকশ জনের মধ্যে থাকা লাগবে এটা মাথায় থাকত।
ভবিষ্যতে যারা বিসিএস ক্যাডার হতে চান, তাদের জন্য আপনার কী পরামর্শ থাকবে?
বিসিএস এক লম্বা যাত্রা। যাদের ধৈর্য আছে, পরিশ্রম করতে পাবেন তারাই বিসিএস প্রস্তুতি নিতে পারেন। গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারলে বেশি পড়া লাগে না। পত্রিকা পড়ার অভ্যাস থাকা জরুরি। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে এই অভ্যাসটা খুব কাজে লাগবে। নন-সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের হলে অবশ্যই নিয়মিত গণিত ও বিজ্ঞান চর্চায় রাখতে হবে। ইংরেজি ভীতি থাকলে তা দূর করতে হবে। সুযোগ থাকলে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার আগে মডেল টেস্ট এবং ভাইভার আগে মক ভাইভা দেওয়া যেতে পারে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।