বাংলা ব্লগারে আপনাকে স্বাগতম, সবার আগে সঠিক তথ্য পেতে আমাদের সাথে থাকুন সব সময়। আমাদের বেশির ভাব তথ্য বিশ্লেষন করে তারপর উপস্থাপন করা হয়। শতভাগ তথ্য অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে বিশ্লেষনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। আপনি চাইলে যে কোন তথ্য আমাদের কাছেও পাঠাতে পারেন।
তো চলুন আজকের বিষয়’টি নিয়ে পড়ে নেওয়া যাক….

গতকাল একটা মেয়ের গল্প শুনছিলাম। প্রচন্ড স্ট্রাগলের গল্প। বিসিএস যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সংগ্রাম। স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে একা একটা বড় শহরে নিরন্তর নিজের সাথে যুদ্ধ করে চলেছে শুধুমাত্র একটা বিসিএস ক্যাডার চাকরীর জন্য। একটা অল্প বেতনের চাকরী, যার অর্ধেকের বেশী চলে যায় মেয়ের দুধ আর বিসিএসের বই কিনতে। কোনো বিলাসিতা নয়, কায়মনোবাক্যে শুধু একটাই কাম্য একটা যেকোনো ক্যাডারে চাকরী। আমি তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি। কিন্তু অবচেতনে আতংকিত হচ্ছিলাম নেতিবাচক বৈকল্পিক পরিনতি চিন্তা করে।

আজ ৩৬ তম বিসিএসের রেজাল্ট বের হলো। দীর্ঘ সাধনার সফল রূপায়নে অনেকেই হয়তো হাসছেন। আর যারা বেলা বোসকে ফোন দিতে পারেন নি, যাদের সুদীর্ঘ দুই বছরের পরিশ্রমের বীজ মাটির অন্ধকারেই মাথা কূটে মরছে। যাদের মনে হচ্ছে আপনি সমস্ত পৃথিবীর কাছেই চরম অপাংক্তেয়, অপদার্থ, অসফল একজন হেরে যাওয়া মানুষ। তাদের জন্য বলছি, “Life is 10% what happens to you, its 90% how you react on it.”

বিসিএস নিয়ে মানুষের ফ্যান্টাসীর সীমা নেই। অনেকেই অফিসে এসে, ফোন করে, ইনবক্সে আমার সফলতার গল্প শুনতে চান। পরামর্শ চান কিভাবে বিসিএসে ভাল করা যায়। আমি সাধ্যমতো পড়াশোনার গাইডলাইন দিয়েও থাকি। কিন্তু বিসিএসের আকাংখা যেন কোনো ক্রমেই বিকারে না পৌছে। সফলতার গল্প শুনতে চাইলে বলি, আমি মনে করি না একজন বিসিএস পুলিশ ক্যাডার চাকরী পেলেই সে সফল, আর তা না পেলে বাবু রে তোর জীবনটা যে ষোল আনাই মিছে… এমনটা নয়। বরং আমি আমার ব্যর্থতার গল্প করতেই বেশি পছন্দ করি।

২৮ তম বিসিএসে আমি প্রথমবার বিসিএস দেই এবং যারপরনাই আদাজল খেয়ে চোখ কান বন্ধ করে পড়াশোনা করলাম। কিন্তু বিধিবাম, ভাইভাবোর্ড আমার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটখানা দেখে ভাইভা নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন। যার ফলশ্রুতিতে ননক্যাডার আর তাবৎ লোকের ঈষৎ শ্লেষ মিশ্রিত বিদ্রুপাত্মক আচরণ হজম করা। আমি যারপরনাই বিসিএসের ভূত মাথা থেকে তাড়িয়ে ইতিমধ্যে যোগদান করা শিক্ষা অফিসারের চাকরি বহাল তবিয়তে করতে লাগলাম। নিতান্ত বাবার ইচ্ছায় কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই ৩০ তম বিসিএস দিলাম।

পরিশ্রমের ফল যে দীর্ঘ ব্যবধানে হলেও মিষ্টি তার প্রমাণ আবারও পেলাম।
সুতরাং, যারা আজ পরিশ্রমের মিষ্টি ফলটি খেতে পারলেন না, তাদের হতাশ হবার কোনো কারণ নাই। কারণ পড়াশোনা কখনও বৃথা যায় না আর বিসিএস পরীক্ষাই মেধা যাচাই এর একমাত্র মাপকাঠি নয়। নিজের উপর আস্থা রাখুন, দুনিয়াকে বুঝিয়ে দিন ক্যাডার না হলেও সফল হওয়া সম্ভব। অগ্রিম অভিনন্দন রইল…. স্ফুটনোম্মুখ অঙ্কুরের জন্য।

News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *