আরিফুল ইসলাম রনি। ৩৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেছেন তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থী রনি। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার গল্প লিখেছেন- এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

দিনটি ছিল ১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিল! নিহতের সংখ্যা বিচারে স্মরণকালের ভয়াবহতম ঘূর্নিঝড়ে আঘাতহানে উপকূলীয় অঞ্চলে। এমনি এক বিকেলে বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার কালাইয়া গ্রামে আঃ সহিদ মিয়া ও মাকসুদা আক্তারের কোলজুড়ে পৃথিবীতে আসেন আরিফুুল ইসলাম রনি। বরগুনা জিলা স্কুলে পড়েছেন ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত। ৫ম শ্রেণীতে পেয়েছেন সরকারী বৃত্তি।

৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন দেশের কয়েন জমানোর প্রতি আগ্রহ জন্মে আরিফুলের। যেখানে যেতেন, চেষ্টা থাকতো কয়েন জামানোর। কেউ বিদেশ থেকে ফিরলে তার কাছ থেকে কয়েন নেয়ার চেষ্টা থাকত। শুধু তাই নয়, স্কুল পালিয়ে কয়েন সংগ্রহ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। আর যেসব দেশের কয়েন জমাতেন, সেসব দেশ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতেন। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই রনির ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়ে যায় । বর্তমানে রনির সংগ্রহে প্রায় ৬০-৭০ টি দেশের কয়েন আছে।

বাবার সরকারী চাকরির সুবাধে ৭ম শ্রেণীতেই ঢাকায় পাড়ি জমান রনি। ভর্তি হন উত্তরা হাই স্কুলে। সেখান থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে স্কুল জীবনের অবসান ঘটান। ভর্তি হন রাজউক উত্তরা মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজে। এরই মধ্যে পেয়ে বসে গিটারের নেশা। বন্ধুদের সাথে বাফায় গিটার বাজানো শিখতেন। স্বপ্ন দেথতেন গিটারিস্ট হবার। এরই মধ্যে ২০১০ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.৪০ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের সমাপ্তি হয়।

কবিতার গল্প, গিটারের সুর
চলে এলো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির মৌসুম। ভর্তি হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই কবি হওয়ার ইচ্ছা। তাই কবিতা পড়া ও রাত জেগে কবিতা লেখাই ছিল তার নিত্যকার অভ্যাস। আর সাথে ছিল গিটারের সুর। সময় পেলেই দেখা করতেন বিভিন্ন কবি-সাহিত্যেকদের সাথে। ৩য় বর্ষে থাকতেই একুশে বইমেলায় ‘অন্ধকারের আগুন থেকে’ প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। উত্তরা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করতে প্রায় ৩-৪ ঘন্টা সময় ব্যয় হত। ফলে পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের ভালো লাগা, ভালোবাসার কাজগুলোতে সময় দেয়া যেন ম্যাক্সিম গোর্কীর মা উপন্যাসের মত সংগ্রামের ছিল।

‘‘১১তম বিজেএস (সহকারী জজ) এ নিয়োগ প্রাপ্ত
হয়ে সহকারী জজ হিসেবে কয়েকমাস চাকরি করেছেন রনি’’

লেখালেখি বিসিএসে কাজে দিয়েছে
৪র্থ বর্ষ থেকেই বিসিএস জীবন যাপন শুরু করলেন। ইচ্ছা হলো বিসিএস ক্যাডার হবেন-ই। রাত জেগে পড়তেন । ফজরের আজান শুনে ঘুমাতে যেতেন। প্রতিদিন কত পৃষ্ঠা পড়বেন, তার একটা লক্ষ্য ঠিক করে তা বাস্তবায়ন করতেন। বাংলা সাহিত্য পড়ার ও লেখালেখি করার অভ্যাস বিসিএসে বিভিন্ন কোটেশন ব্যাবহার ও নতুন নতুন শব্দ ব্যবহার করতে কাজে দিয়েছে। আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হওয়ায় গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে তেমন ঝামেলা পোহানো ছাড়াই ৩৭তম বিসিএস ক্যাডার। এর আগে অবশ্য ১১তম বিজেএস (সহকারী জজ)-এ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে যোগদান করেছিলেন তিনি।

বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য রনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিসিএসের পড়ালেখা এমন কঠিন কিছু না যে; একজন গ্রাজুয়েট পড়লে পারবে না। পড়লে বিসিএস হবেই। তার ভাষ্য, বিসিএস একটা জীবন যাপনের মত। ধৈর্য্য ধরে এ জীবনটাকে যাপন করে যেতে হবে। কেউ কেউ ৩/৪ বছরে সফল হয়; আবার কারো ক্ষেত্রে ৫/৬ বছরে জীবনটা যাপন করতে হয়। প্রত্যেকেরই নিজস্ব কৌশল আছে। আর সেটা আবিস্কার করে পড়াশোনা করলে বিসিএস নামক হরিন ধরা দিবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এএসপি রনি।

News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *